'নিউইয়র্কে কেউ অভুক্ত থাকবে না'

নিউইয়র্ক নগরীর মেয়র বিল ডি ব্লাজিও। ছবি: রয়টার্স
নিউইয়র্ক নগরীর মেয়র বিল ডি ব্লাজিও। ছবি: রয়টার্স

বহু জাতি–ধর্মের লোকের নগরী নিউইয়র্কে রমজান মাসে পাঁচ লাখ হালাল খাবার সরবরাহ করার ঘোষণা দিয়েছেন নগরীর মেয়র বিল ডি ব্লাজিও। নগরীর মোট ২০ লাখ মানুষ দুর্যোগের এ সময়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সম্প্রতি এ খাদ্য সহায়তার ঘোষণা দেন।

এ সম্পর্কিত ঘোষণায় নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও বলেন, নগরীর পক্ষ থেকে এ মাসে সব মিলিয়ে এক কোটি খাবার সরবাহ করা হবে। মে মাসে আরও দেড় কোটি খাবার দেওয়া হবে। এসব ফ্রি খাবার দেওয়ার জন্য নিউইয়র্ক নগরীতে মোট কত ব্যয় হবে, তা না জানালেও মেয়র ডি ব্লাজিও বলেন, নিউইয়র্কের কেউ অভুক্ত থাকবে না। নগরী তাদের খাবার দেবে।

নগরীতে রমজান মাসে বিতরণ করা খাবারের মধ্যে পাঁচ লাখ হালাল খবার বিতরণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পুরো কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নগরীর ২০ লাখ খাদ্য নিরাপত্তাহীন মানুষকে খাবার দেওয়া সম্ভব হবে।

মেয়র ব্লাজিও জানিয়েছেন, প্রায় চার লাখ খবার দেওয়া হবে নগরীর শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন ৩২টি স্থাপনার মাধ্যমে। বাকি এক লাখ খাবার বিতরণ করা হবে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে। নগরীর পক্ষ থেকে থেকে ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের জন্য 'কোশার' খাবারও সরবরাহ করা হচ্ছে। নগরীর ৩৩৫টি এলাকায় 'গ্র্যাভ অ্যান্ড গো' খাবার দেওয়া হচ্ছে। যে কেউ উপস্থিত হয়ে খাবার নিয়ে যেতে পারছে এসব এলাকা থেকে। এ ছাড়া বয়স্ক ও বিপন্ন লোকজনকে ট্যাক্সি দিয়ে খাবার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ১৭০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে এ ফ্রি খাবার কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

অভুক্তদের খাওয়ানোর জন্য 'রমজান' একটি আদর্শ সময় উল্লেখ করে মেয়র ডি ব্লাজিও বলেন, এ সময়টি যাদের প্রয়োজন তাদের পাশে দাঁড়ানোর সেরা সময়। লোকজন মসজিদে যেতে পারছেন না। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তাদের কাছে এখন পৌঁছানো কঠিন। মেয়র বলেন, নগরীর ৪ লাখ ৭৫ হাজার লোক কর্মহীন হয়ে পড়বে লকডাউন ও কভিড- ১৯ এর কারণে।

বৃহস্পতিবার রাতে তারাবির নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কের কোনো মসজিদেই তারাবির জামাতে যোগ না দিয়ে লোকজন বাসায় নামাজ আদায় করছেন। বাংলাদেশিসহ অন্যান্য মুসলিম কমিউনিটিতেও একই অবস্থা। জ্যাকসন হাইটসের মোহাম্মদী সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম কাজী কাইয়্যুম জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে ফেসবুক লাইভে তারাবি, জুমা ও ঈদুল ফিতরের জামাতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর সঙ্গে ফেসবুকে যুক্ত হয়ে ঘর থেকেই সপরিবারে তারাবির নামাজে অংশগ্রহণ করা যাবে।