
নিউইয়র্ক নগরীর ট্রাফিক বিভাগের তৃতীয় শীর্ষ পদবির কর্মকর্তা বাংলাদেশি-আমেরিকান মোহাম্মদ চৌধুরীকে এনওয়াইপিডির পক্ষ থেকে গার্ড অব অনারের মধ্য দিয়ে অন্তিম অভিবাদন জানানো হয়েছে। ২২ এপ্রিল দুপুরে ম্যানহাটনের পার্ক অ্যাভিনিউর ফিউনারেল হোমে মরহুম মোহাম্মদ চৌধুরীর পরিবারের হাতে পতাকা তুলে দেন দেন বিভাগীয় কর্মকর্তারা।
সামরিক কায়দায় জানানো এ অন্তিম অভিবাদনে এনওয়াইপিডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় এনওয়াইপিডির কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, মোহাম্মদ চৌধুরী ইচ্ছে করলে ঘরে বসে থাকতে পারতেন। কিন্তু দূর্যোগের এ সময়ে নিজের দায়িত্বকে প্রধান মনে করে তিনি কাজ করেছেন। কাজ করতে গিয়েই করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।
নিউইয়র্ক নগরীর ট্রাফিক বিভাগের তৃতীয় শীর্ষ পদবীর কর্মকর্তা বাংলাদেশি-আমেরিকান মোহাম্মদ চৌধুরী ১৯ এপ্রিল কুইন্স জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। গত তিন সপ্তাহ থেকে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।
মোহাম্মদ চৌধুরীর জন্ম ঢাকায়। লেখাপড়া করেছেন মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। মোহাম্মদ চৌধুরী নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগের প্রথম দিকের বাংলাদেশি, যিনি দীর্ঘ ৩০ বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। নিউইয়র্ক নগরীর ট্রাফিক বিভাগের বরো সেকশন কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
১৯৯০ সালের ৩০ এপ্রিল মোহাম্মদ চৌধুরী কর্মক্ষেত্রে যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালে ট্রাফিক সুপারভাইজার হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০৯ সালে ট্রাফিক ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে নিজের দক্ষতায় এগিয়ে যান। ২০১৬ সালে দীর্ঘ ২০ বছর সঠিক উপস্থিতির জন্য পদক পান এ বাংলাদেশি। মোহাম্মদ চৌধুরী বাংলাদেশি-আমেরিকান (এনওয়াইপিডি) ট্রাফিক বিভাগের এ যাবৎকালের সবোর্চ্চ র্যাঙ্কধারী অফিসার ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি সেকশন কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। নিউইয়র্ক পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশিদের কাছে তিনি একজন আইকন ছিলেন।
মোহাম্মদ চৌধুরীর মৃত্যুর খবরে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)।