চাঁদপুরে ৮ ঘণ্টা পর ধর্মঘট প্রত্যাহার, বাস চলাচল শুরু
চাঁদপুরে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রায় ৮ ঘণ্টা পর প্রত্যাহার করেছেন বাসমালিক ও শ্রমিকনেতারা। বেলা ২টা থেকে চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কে পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
আজ দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক জরুরি সভায় বাসমালিক, শ্রমিক ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা হয়। সেখানে উভয় পক্ষ পুনরায় বাস চলাচলে সম্মত হলে বেলা ২টা থেকে চাঁদপুর–কুমিল্লা সড়কে বাস চলাচল শুরু হয়। তবে আলোচনা সভায় হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখালে বাসস্টপেজের দাবি ও বাসে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনার জন্য বাসমালিক-শ্রমিক ও ওই এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরস্পরকে দোষারোপ করেন।
চাঁদপুর–কুমিল্লা সড়কে চলাচলকারী আইদি পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির হোসেন সভায় অভিযোগ করেন, বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষকের ইন্ধনে শিক্ষার্থীরা গত ১৮ মে থেকে বলাখালে বাসস্টপেজের দাবিতে আন্দোলনের নামে বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে।
সভায় চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি বলেন, একজন শিক্ষকের ইন্ধনে বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজের বর্তমান ছাত্রদল সভাপতি সাগর এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তবে ছাত্রদল সভাপতি সাগর বলেন, ‘আমরা আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বলাখালে বাসস্টপেজের জন্য আন্দোলন করেছি। কিন্তু ভাঙচুর বা হামলার সঙ্গে আমরা জড়িত না।’
হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এই অবস্থা দেখে শিক্ষার্থী ও বাসমালিকদের সঙ্গে কথা বলে সেখানে ১৮ মে থেকে বাসস্টপেজ করার সিদ্ধান্ত দিয়ে আসি। কিন্তু পরদিন ১৯ মে পর্যন্ত সেখানে বোগদাদ স্টপেজ দিলেও আইদি পরিবহন তা বন্ধ করে দেয়। এ কারণে উভয় পক্ষ সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে বাস ভাঙচুরসহ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।’
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, ‘আন্দোলনের নামে যে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তার বিষয়ে আমরা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করব।’
চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্তের পরও কেন আন্দোলন হয়েছে বা কারা বাস ভাঙচুর করেছে, এই ঘটনার পেছনে ইন্ধনদাতা কারা, তাদের খুঁজে বের করতে একটি তদন্ত টিম গঠন করব। এবং দুই পক্ষ থেকে মামলা নেব। বলাখালে বাসস্টপেজের বিষয়ে ঈদের পর আমরা সবাই মিলে বসে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’
বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের বাসের জন্য হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখালে বাসস্টপের দাবিতে ১৮ মে থেকে ওই এলাকার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক অবরোধসহ আন্দোলন শুরু করেন। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেদিন অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। তবে গতকাল বুধবার দুপুরের পর একই দাবিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী আবারও সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন। গতকাল সন্ধ্যার পর পরিবহনকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৩ জন আহত হন। এ সময় পাঁচটি বাস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।