ঠিকাদারের গাফিলতিতে জলজট

১ মিলিমিটার বৃষ্টিতেও তলিয়ে যায় পুরান ঢাকার কাজী আলাউদ্দিন রোড। নর্দমা সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ডিসেম্বরে। এ পর্যন্ত কাজ হয়েছে ২০ ভাগ।

  • কাজী আলাউদ্দিন রোডের কারণে শুক্রবার আশপাশের অন্তত সাতটি জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

  • ঠিকাদারকে তিন দফায় তাগাদা দিয়েও কাজ হয়নি। বর্ষা শুরুর আগে কাজে হাত দিয়েছেন।

সামান্য বৃষ্টিতেও তলিয়ে যায় পুরান ঢাকার কাজী আলাউদ্দিন রোড। গত শুক্রবার বিকেলে
ছবি: প্রথম আলো

সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় মূল সড়ক ও আশপাশের অলিগলি। বছরের পর বছর এমন ভোগান্তি পোহাচ্ছে পুরান ঢাকার কাজী আলাউদ্দিন রোডের বাসিন্দারা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নর্দমা নির্মাণের কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এ পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ২০ ভাগ। ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমেও ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না কাজী আলাউদ্দিন রোডের বাসিন্দাদের।

গতকাল শনিবার রাজধানীতে এক মিলিমিটারের মতো বৃষ্টি হয় বলে জানায় আবহাওয়া অফিস। সামান্য এই বৃষ্টিতেও তলিয়ে যায় বংশাল থানাধীন কাজী আলাউদ্দিন রোড ও এর আশপাশের অলিগলি।

গতকাল বিকেলে ওই এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, দুপুরের সামান্য বৃষ্টিতে কাজী আলাউদ্দিন রোড তলিয়ে যায়। আগের দিন শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সড়কটি পানির নিচে ছিল বলে জানান তিনি।

কাজী আলাউদ্দিন রোডের কাজ শেষ না হওয়ায় তাঁর ওয়ার্ডের অন্তত দুই লাখ বাসিন্দা জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
মো. আউয়াল, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর

কাজী আলাউদ্দিন রোডের কারণে শুক্রবার আশপাশের অন্তত সাতটি জায়গায় জলাবদ্ধতা হয় বলে জানান ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, কাজী আলাউদ্দিন রোডের আশপাশের এলাকায় চলতি বর্ষা মৌসুমের আগেই নর্দমা সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে।

আশপাশের এলাকার পানি কাজী আলাউদ্দিন রোডের নর্দমা হয়ে বুড়িগঙ্গায় যাওয়ার কথা। কিন্তু সড়কটির নর্দমা নির্মাণের কাজটি শেষ না হওয়ায় এ বছরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের।

ডিএসসিসি সূত্র বলছে, পুরান ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে গত বছরের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে আগা সাদেক রোড, আবুল হাসনাত রোড, শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী রোড, কে পি ঘোষ স্ট্রিট ও সিদ্দিকবাজার এলাকায় নর্দমা সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়। একই সময় কাজী আলাউদ্দিন রোডের নর্দমা সংস্কারের কার্যাদেশও দেওয়া হয়।

কাজী আলাউদ্দিন রোডকে পুরান ঢাকার পানিনিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ পথ উল্লেখ করে ডিএসসিসির কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সচল করা না হলে মানুষের দুর্ভোগ শেষ হবে না।

প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, কাজী আলাউদ্দিন রোড থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার নর্দমা ও সড়ক সংস্কারে প্রায় সাত কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই কাজ গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারকে তিন দফায় তাগাদা দিয়েও কাজ শেষ করানো যায়নি। ঠিকাদার বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে কাজে হাত দিয়েছেন। বৃষ্টির কারণে এখন নিয়মিত কাজও করা যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত মাত্র ২০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী মাসের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে করপোরেশনের প্রকৌশলীরাই মনে করছেন, এক মাসে বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না।

ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগ সূত্র বলছে, কাজী আলাউদ্দিন রোডের নর্দমা নির্মাণসহ সড়কের সংস্কারকাজের কার্যাদেশ পেয়েছেন ঠিকাদার কাজী মোরশেদ কামাল। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ডিএসসিসির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি পরিচিত। এ কারণে প্রকৌশলীরা জোর দিয়ে তাঁকে কিছু বলতে পারছেন না।

কাজী আলাউদ্দিন রোডের নর্দমার কাজ শেষ না হওয়ায় বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে দক্ষিণ সিটির ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আউয়াল প্রথম আলোকে বলেন, কাজী আলাউদ্দিন রোডের কাজ শেষ না হওয়ায় তাঁর ওয়ার্ডের অন্তত দুই লাখ বাসিন্দা জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে। ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে বলে জানান সেখানকার কাউন্সিলর মো. মামুন। বাকি ৩১ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত ৭০ হাজার মানুষও দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন।

যথাসময়ে কাজ শেষ না করার কারণ জানতে ঠিকাদার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোরশেদ কামালকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি জবাব দেননি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএসসিসির এসব কাজের দেখভাল করছেন সংস্থার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের। গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এই বর্ষার মধ্যেই কাজী আলাউদ্দিন রোডের নর্দমা সংস্কারের কাজ শেষ হবে।