ঢাকা শহরকে আর পানিতে ডুবতে দেব না: তাপস
আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস ঢাকাবাসীর জন্য নাভিশ্বাস ও অস্বস্তির মাস উল্লেখ করে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ‘আগে রাজধানীর ৭০ ভাগ এলাকা পানিতে প্লাবিত হতো। কিন্তু গত দেড় বছরের মধ্যে এই বর্ষা মৌসুমে শহরের ৭০ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়নি। পানিও জমেনি। ঢাকা শহরকে আর পানিতে ডুবতে দেওয়া হবে না।’
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এক অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এসব কথা বলেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ৫৫টি স্লুইসগেটের দায়িত্বভার দক্ষিণ সিটির কাছে হস্তান্তর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এর আগে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব (খাল ও ড্রেনেজ) আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আজ দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় থাকা স্লুইসগেটগুলোর দায়িত্বভার করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় থাকা ১১টি স্লুইসগেট দেখভালের দায়িত্বও উত্তর সিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড যে স্লুইসগেটগুলো দক্ষিণ সিটির কাছে হস্তান্তর করছে, এর সব কটিই অচল উল্লেখ করে মেয়র শেখ ফজলে নূর বলেন, এরই মধ্যে স্লুইসগেট রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের যাবতীয় কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। কাল সোমবার থেকে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হবে। অচল স্লুইসগেটগুলো মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের যে কার্যক্রম তাঁরা হাতে নিয়েছেন, তা কার্যকর করা যাবে বলে আশাবাদী তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওয়াসার কাছ থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে পর তাঁদের যে পরীক্ষা হয়েছিল, সে পরীক্ষায় তাঁরা পাস করেছেন।’ এখন আগারগাঁও, মধুবাগ, নেভি হেডকোয়ার্টারের সামনে আর পানি জমছে না। যেসব এলাকায় পানি জমছে, সেখানে কুইক রেসপন্স টিমের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। উত্তর সিটিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ১১টি স্লুইসগেট হস্তান্তর করা হলে আরও বেশি সেবা জনগণকে দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন আতিকুল।
স্লুইসগেটের পাশাপাশি গোড়ান চটবাড়ি এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাম্পহাউস উত্তর সিটির কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানান মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কখন কাজ করবে, এ জন্য উত্তর সিটি বসে নেই। পানিপ্রবাহ যাতে ঠিক থাকে, এ জন্য তাঁরা নিজস্ব অর্থায়নে কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে দুই সিটির কাছে খাল ও নালা হস্তান্তরের পর সেগুলো পরিষ্কার, খনন, পুনঃখনন, সংস্কার ও দখল হয়ে জায়গা উদ্ধার করার ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর জলাবদ্ধতা অনেক কম হয়েছে। আগে ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট তলিয়ে যেতে দেখা গেছে। এখন সেই পরিস্থিতি নেই।
মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা শহরের অধিকাংশ বাসাবাড়িতে সেপটিক ট্যাংক নেই। বাড়ির মালিকেরা নিজেদের সুয়ারেজ লাইন সরাসরি খালে দিয়ে রেখেছেন।
তাঁদের অনেকবার সতর্ক করা হলেও ফল সন্তোষজনক নয়। তাই সতর্ক করলেই হবে না। কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেপটি ট্যাংক না করলে সুয়ারেজ লাইন বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার প্রমুখ।