নিউইয়র্ক সিটিতে ২১ শতাংশের শরীরে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পূর্বের ধারণার চেয়ে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা বেশি হতে পারে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক সিটিতে অ্যান্টিবডির জন্য পরীক্ষিত প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের বেশি মানুষের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে।
এ সপ্তাহে নিউইয়র্ক সিটিতে ১৩ হাজার ব্যক্তির করোনাভাইরাস অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা গেছে, ২১ শতাংশের বেশি মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো এ তথ্য জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে মহামারির প্রাথমিক কেন্দ্রস্থল নিউইয়র্ক সিটিতে পরীক্ষিত ২১ লোকের অ্যান্টিবডি পাওয়ায় সেখানে সংক্রমণের হার বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যারা করোনাভাইরাসে মৃদু আক্রান্ত হয়ে সেরে গেছেন, তাঁদের শরীরে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। এতে তাঁরা আর সংক্রমিত হবেন না। করোনাভাইরাসের বিস্তার কোথায় কতটুকু হয়েছে, এর প্রতিরোধে কোথায় কত দিন লকডাউনের মতো ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নিরূপণে অ্যান্টিবডি টেস্ট একটি কার্যকর পদ্ধতি।
অ্যান্ড্রু কুমো বলেন, এই ফলাফল অঙ্গরাজ্যভিত্তিক একটি কর্মসূচি থেকে এসেছে, যেখানে নিউইয়র্কজুড়ে তিন হাজার সুপার মার্কেট গ্রাহকদের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে ১৪ শতাংশ ফলাফল ইতিবাচক এসেছিল।
তবে প্রাথমিক তথ্য কীভাবে বলা হয়েছিল, তা ঠিক স্পষ্ট নয়। সাধারণভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া অ্যান্টিবডি পরীক্ষার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অ্যান্টিবডি পরীক্ষা কোনো ব্যক্তির ভাইরাস প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করেছে কি না, তার সংকেত দেয়। এটি ভাইরাস পরীক্ষা করে না।
কিছু প্রাথমিক অ্যান্টিবডি পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠলেও নিউইয়র্কের গবেষকরা সাম্প্রতি ফেডারাল অনুমোদনে তাদের নিজস্ব অ্যান্টিবডি পরীক্ষার বিকাশ ও বৈধতা দেওয়ার জন্য কাজ করেছেন। কর্মকর্তা মনে করছেন, কখন এবং কীভাবে অর্থনীতির পুনরায় আরম্ভ করা এবং লোকজনকে কাজে আনা যাবে, তা নির্ধারণে সহায়তা করার জন্য সঠিক অ্যান্টিবডি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
কুমো বলেন, 'টেস্টিং আপনাকে জনসংখ্যার সংক্রমণের হার ও সব কিছু খুলে দেওয়ার কৌশল সম্পর্কে অবহিত করতে পারে।'
এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে করোনাভাইরাস অ্যান্টিবডি পরীক্ষা শুরু হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হলে লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসতে চায় কোলাহলের নগর নিউইয়র্ক।
তিনটি বিষয়ে প্রতিদিন নজর রাখা হচ্ছে বলে গভর্নর জানান। এর মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তির নতুন সংখ্যা, হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তির সংখ্যা এবং টেস্ট করার পর ভাইরাসে আক্রান্তের হার।
পুরো যুক্তরাষ্ট্র লকডাউন করার পর অর্থনীতিকে সচল করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই মে মাসের শুরুতে সবকিছু খুলতে চাইছেন। এতে অনেকে আপত্তি জানিয়েছেন। দেশটির বিশেষজ্ঝ ডা. অ্যান্থনি ফাউচি মনে করেন, নতুন অ্যান্টিবডি টেস্ট ব্যবহার করে দেখা যেতে পারে।