পল্লবীতে পাশের ফ্ল্যাটে খুন হয় শিশুটি, সন্দেহভাজনকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার প্রথম আলোকে বলেন, এখনো আসামিকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সোহেল রানা ওই ফ্ল্যাটে দুই মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ঘটনার পর তিনি শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে ওই বাসা থেকে তাঁর স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, শিশুটি নিখোঁজের এক ঘণ্টার মধ্যেই পাশের ফ্ল্যাট থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে হত্যা করা হয় আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে। ৯৯৯ নম্বরে সংবাদ পেয়ে বেলা ১১টার পর শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও পরিবার জানায়, শিশুটি স্থানীয় একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত।

এর আগে বিকেলে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটিকে হত্যায় পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের ভাড়াটে সোহেল রানাকেই মূল সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি পেশায় রিকশার মেকানিক। তাঁর কক্ষ থেকেই রক্তমাখা কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শিশুটির পরিবার যা জানাল

আজ দুপুরের পর পল্লবীর ওই বাসার সামনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে উৎসুক জনতার ভিড়। ভিড় ঠেলে বাসায় ঢুকতেই দেখা যায়, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করছেন। নিহত শিশুটির বাসায় স্বজনদের ভিড়।

শিশুটির এক চাচা প্রথম আলোকে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোনের সঙ্গে শিশুটির স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল। হঠাৎই তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর মা দেখেন পাশের ফ্ল্যাটে দরজার বাইরে শিশুটির পায়ের একটি জুতা পড়ে আছে। তখন পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় নক করেন। ভেতর থেকে বন্ধ দরজাটি তখন খোলা হচ্ছিল না। অনেক সময় ধরে নক করা হলেও দরজা খোলা হয়নি। এতে সন্দেহ আরও বাড়ে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশুটির লাশ পায়।

ঘোষণা : এই প্রতিবেদনটি ১৯ মে রাত ৮ টা ৫০ মিনিটে প্রকাশিত হয়। সে সময় শিশুটিকে ধর্ষণের বিষয়টি জানা যায়নি। এ কারণে শিশুটির পরিচয় ও ছবি প্রতিবেদনে দেওয়া হয়। পরে এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধিতে মামলা করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগীর নাম, পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করা যায় না। এ কারণে এই প্রতিবেদন থেকে শিশুটির নাম, ছবি ও তার পরিবারের পরিচয় সরিয়ে দেওয়া হলো।