সরাইলে সেপটিক ট্যাংকে নেমে ৪ শ্রমিকের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মৃত শ্রমিকদের স্বজনদের আহাজারি। আজ বুধবার বিকেলে উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামেছবি : প্রথম আলো

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে নেমে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন গলানিয়া গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে ইমান হোসেন (৩৫), নান্নু মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (৩২), দুলাল মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান (১৮) ও ধর্মতীর্থ গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে আরমান মিয়া (২০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গলানিয়া গ্রামের আলী মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনে আজ সকাল থেকে কাজ শুরু করেন ইমান হোসেন, হৃদয় মিয়া ও মেহেদী হাসান। দুপুর ১২টার দিকে ওই ভবনের সেপটিক ট্যাংকে নামেন হৃদয়। তাঁর সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর নামেন তাঁর খালাতো ভাই ইমান হোসেন। ওই দুজনই কোনো সাড়া দিচ্ছিলেন না। এরপর সেখানে নামেন মেহেদী হাসান। ওই তিনজনের সাড়া না পেয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা পর ভবনের মালিক আলী মিয়া পাশের বাড়ির নির্মাণাধীন ভবনে কর্মরত আরমান মিয়াকে ডেকে নিয়ে আসেন। এরপর সেপটিক ট্যাংকে নামেন আরমান মিয়া। ওই চারজনই কোনো সাড়াশব্দ দিচ্ছিলেন না। খবর শুনে ওই ভবনের আশপাশে এলাকার লোকজন ভিড় জমাতে থাকেন। ইতিমধ্যে ভবনের মালিক আলী মিয়া পালিয়ে যান।

গ্রামের লোকজন বিষয়টি থানা-পুলিশকে জানান। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সরাইল ইউনিট গলানিয়া গ্রামে আসে। পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় ফায়ার সার্ভিসের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের আরেকটি ইউনিট। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে ভবনের দেয়াল ভেঙে ওই চার শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ ঘটনাস্থল থেকে প্রথম আলোকে বলেন, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে বিদ্যুতের লাইন নিয়ে কাজ করা হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ওই চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া গ্যাসের কারণে বা অক্সিজেন–শূন্যতার কারণেও তাঁদের মৃত্যু হতে পারে।

আজ রাত আটটার দিকে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, লাশ উদ্ধার করে পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বৃহস্পতিবার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। শ্রমিকদের মৃত্যুর জন্য যদি ভবনমালিকের কোনো দায়িত্বহীনতার কারণ জড়িত থাকে, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।