কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন (২৩) হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকায় খালাস দেওয়া হয়েছে পাঁচজনকে। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব ডুমখালী এলাকার জাফর আলমের ছেলে মো. হেলাল উদ্দিন, আবদুল মালেকের ছেলে নাছির উদ্দিন, আবুল কালাম কবিরাজের ছেলে মোর্শেদ আলম এবং একই ইউনিয়নের রিংভং ছগিরশাহ কাটা এলাকার মৃত কামাল হোসেনের ছেলে নুরুল আমিন। তাঁদের মধ্যে মোর্শেদ আলম পলাতক।
আদালতের অতিরিক্ত পিপি খুরশিদ আলম চৌধুরী রায়ের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি অস্ত্র মামলারও রায় দেওয়া হয়। সেই মামলায় ১৩ আসামিকে দুটি পৃথক ধারায় ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হত্যা মামলাটির মতো ওই মামলায়ও পাঁচ আসামি খালাস পেয়েছেন।
২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার। এ ঘটনায় ২৫ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ১৭ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতিসহ হত্যা মামলা করেন। পরে চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে একই আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করেন। দীর্ঘ ৪ মাস তদন্ত শেষে গত বছরের ১৯ জানুয়ারি ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন চকরিয়া পৌরসভার কাহারিয়াঘোনা এলাকার নুরুল কবিরের ছেলে জালাল উদ্দিন, ভরামুহুরী এলাকার মো. আনোয়ার হাকিম, চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের উচিতার বিলের মৃত শহর মুল্লুকের ছেলে মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকার মোজাফফর আহমদের ছেলে জিয়াবুল করিম, নুরুল আলমের ছেলে মো. ইসমাইল হোসেন, মৃত নুরুল আলমের ছেলে এনামুল হক, পূর্ব ডুমখালী এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ এনাম, রংমহল এলাকার নুর আলমের ছেলে মো. কামাল, ছগিরশাহ কাটা এলাকার গোলাম কাদেরের ছেলে আবদুল করিম। অস্ত্র মামলাটিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৪ জনসহ ১৩ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দুই মামলায় খালাস পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের উচিতারবিল এলাকার মো. খাইরুজ্জামানের ছেলে মো. ছাদেক, চকরিয়া পৌরসভার পূর্ব পালাকাটা এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম, একই এলাকার ছৈয়দ আহমদের ছেলে শাহ আলম, মৃত ইব্রাহিম খলিলের ছেলে আবু হানিফ, বান্দরবানের লামা উপজেলার অংশাংঝিরি এলাকার আবদুল জলিলের ছেলে মিনহাজ উদ্দিন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খুরশিদ আলম চৌধুরী বলেন, হত্যা মামলায় বাদীপক্ষে ৫২ জন সাক্ষী ছিলেন। তাঁদের আসামিপক্ষ জেরা করেছে। অন্যদিকে অস্ত্র মামলায় ৪৬ জন সাক্ষী ছিলেন, আসামিপক্ষে ৭ জন সাফাই সাক্ষী দিয়েছেন। আদালত সবকিছু পর্যালোচনা করে রায় দিয়েছেন।
জানতে চাইলে বাদীপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল এহেছান বলেন, সমাজে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ রায় যুগান্তকারী হিসেবে পরিগণিত হবে। মামলার রায় ঘোষণার সময় ১৮ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির মধ্যে তিনজন কারাগারে। মোর্শেদ আলম নামের একজন পলাতক।
লেফটেন্যান্ট তানজিমের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তিনি ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেছিলেন।