পাটওয়ারীর ওপর হামলার সময় অস্ত্রসদৃশ বস্তু বের করা তরুণ কে

হামলা–সংঘর্ষের একপর্যায়ে আশিক নামে আকাশি রঙের গেঞ্জি পর তরুণ পকেট থেকে এক বস্তু বের করে উদ্যত হন। পাঞ্জাবি পরা আরেকজন তাঁকে নিবৃত্ত করলে তিনি বস্তুটি আবার পকেটে রেখে দেনছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার সময় আকাশি রঙের গেঞ্জি পরিহিত একদল তরুণকে তাঁকে ঘিরে থাকতে দেখা যায়। এ সময় এক তরুণকে পকেট থেকে অস্ত্রসদৃশ কোনো বস্তু বের করে হামলা করতে উদ্যত হওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ওই তরুণের নাম আশিক মণ্ডল। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাষ্টসাগরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঝিনাইদহ শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে কাজ করেন। পাশাপাশি এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রদলের দাবি, ‘আগ্নেয়াস্ত্র’ বের করা ওই তরুণ গুপ্ত সংগঠনের সদস্য। তবে এনসিপি বলছে, আকাশি রঙের গেঞ্জি পরা তরুণ এনসিপির স্বেচ্ছাসেবক। পকেট থেকে বের করা বস্তুটি আগ্নেয়াস্ত্র নয়; আশিকের হাতে চায়না স্টিক ছিল, যা নিরাপত্তার জন্য রাখা ছিল।

আরও পড়ুন

গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়ার পর নেতা-কর্মীদের নিয়ে বের হচ্ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে পাশ থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গেঞ্জি পরিহিত ১৫ থেকে ২০ জনকে তৎপর দেখা যায়। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের পাঁচজন আহত হন।

ঘটনার পর আকাশি গেঞ্জি পরিহিত এক তরুণকে অস্ত্রসদৃশ কোনো বস্তু পকেট থেকে বের করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার একপর্যায়ে আশিক নামের এক তরুণ পকেট থেকে ওই বস্তুটি বের করে মারতে উদ্যত হন। পাঞ্জাবি পরা আরেকজন তাঁকে নিবৃত্ত করলে তিনি বস্তুটি আবার পকেটে রেখে দেন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী একজন প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পাশে নামাজ পড়েছেন। তাঁরা মসজিদে থাকাকালে নাসীরুদ্দীন মসজিদে যান। এ সময় আকাশি গেঞ্জি পরা কয়েকজন তাঁকে ঘিরে রাখেন। পরে সংঘর্ষের সময় আকাশি গেঞ্জি পরিহিত ব্যক্তিদের তৎপরতা বেশি দেখা যায়।

কাষ্টসাগরা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশিক মণ্ডলের পরিবার আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু আশিক সক্রিয় কোনো রাজনীতি করতেন না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তাঁকে সংঘর্ষের সময় অস্ত্রসদৃশ কিছু একটা বের করতে দেখা যায়।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, গুপ্ত সংগঠনের সদস্য আশিক অস্ত্র বের করে মহড়া দিয়েছে। জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে ছিল। তারা এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

জানতে চাইলে এনসিপির ঝিনাইদহ জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী হামিদ পারভেজ বলেন, আকাশি গেঞ্জি পরা ছেলেগুলো স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। আশিকের হাতে চায়না স্টিক ছিল, যেটা নিরাপত্তার জন্য রাখা ছিল। সেখানে কোনো অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেনি।

আরও পড়ুন

মামলায় গ্রেপ্তার নেই

এদিকে হামলার ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতপরিচয় ১১০ থেকে ১১৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। গতকাল রাতে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা বাদী হয়ে মামলা করেন। তার আগে মামলা নেওয়ার দাবিতে দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পরে পুলিশ প্রহরায় তিনি ঝিনাইদহ ত্যাগ করেন।

অন্যদিকে মামলার প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে আজ সকালে জেলা বিএনপি সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করলেও তা স্থগিত করা হয়। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি (তদন্ত) গোকুল চন্দ্র প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার নেই। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

আরও পড়ুন