সংঘর্ষের চার দিন পর সীমিত পরিসরে ক্লাস–পরীক্ষা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের চার দিন পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস সীমিত পরিসরে শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ছয়টি বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত ছিল, তবে একটি বিভাগের পরীক্ষা চলছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত ক্যাম্পাসে সেনাবাহিনীর টহল থাকলেও আজ তা চোখে পড়েনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, আজ সাতটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা ছিল। এ সাতটি বিভাগ হলো—নাট্যকলা, ইতিহাস, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স, হিসাববিজ্ঞান, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স। এর মধ্যে শুধু ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সের তৃতীয় বর্ষের মৌখিক পরীক্ষা হচ্ছে। বাকিগুলো স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগগুলোর জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৮টি বিভাগ ও ৬টি ইনস্টিটিউট মিলিয়ে শিক্ষার্থী আছে প্রায় ২৭ হাজার ৫৫০ জন। সংঘর্ষের কারণে গত রোববার থেকেই ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত আছে। তবে গত রোববার ও সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা চলমান ছিল। শিক্ষার্থীদের সমালোচনার পর আগামী শনিবার পর্যন্ত এ পরীক্ষা স্থগিত রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, গতকাল বাংলাদেশ স্টাডিজ ও অর্থনীতি বিভাগের ক্লাস হয়েছিল। আজকেও কিছু বিভাগে হবে। রোববার থেকে পরীক্ষা ও ক্লাস স্বাভাবিক নিয়মে চলবে বলে তিনি আশা করেন।
সীমিত পরিসরে ক্লাস শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অন্য দিনের তুলনায় অনেক কম। আজ সকালে সরেজমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, শহীদ মিনার, গোল চত্বর ও ২ নম্বর গেট এলাকায় দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের মতো এ অঞ্চলে কোলাহল নেই। অন্যদিন এসব জায়গা শিক্ষার্থীদের আড্ডা আর কোলাহলে মুখর থাকত। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার সব দোকানপাট খোলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বাস ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের শাটল ট্রেন নিয়মিত সূচিতে চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কোরবান আলী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। আজকেও একটি বৈঠক রয়েছে।
এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় ক্যাম্পাস-সংলগ্ন জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২২০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে তিন শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। একজনকে এখনো লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে আটজন স্থানীয় বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।