চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসনসংকট রয়ে গেছে, খাবার নিয়ে অসন্তোষ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গ্রাফিক্স: প্রথম আলো

সরু গলি পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই সারি সারি ছোট কক্ষ। সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। কোথাও স্যাঁতসেঁতে দেয়াল, কোথাও জমে রয়েছে নোংরা পানি। প্রতিটি কক্ষে গাদাগাদি করে থাকছেন দুজন শিক্ষার্থী। একটি বিছানা ও একটি পড়ার টেবিল রাখলেই কক্ষে আর জায়গা থাকে না। ৫০ জন শিক্ষার্থীর ব্যবহারের জন্য রয়েছে মাত্র একটি শৌচাগার। গোসল করতে হয় খোলা জায়গায়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি কটেজে দেখা যায় এ চিত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক দিয়ে ঢুকে ডানে গেলেই ছাত্রদের আবাসিক শাহজালাল হল। এর ঠিক বিপরীত পাশেই এই কটেজের অবস্থান। হলে আবাসন না পাওয়া শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে এসব কটেজে ভাড়া দিয়ে থাকেন।

আরও পড়ুন

এমন কটেজে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মামুন ইসলাম। তাঁর বাবা কৃষক। পাঁচ সদস্যের সংসারে তিনি সবার ছোট। পড়াশোনার খরচ চালাতে পরিবার থেকে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। টিউশনি করে মাসে চার হাজার টাকা পান। সেই টাকায় যাতায়াত, খাবার ও আবাসনের খরচ সামলাতে হয় তাঁকে।

একই পরিস্থিতির শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। আবাসনসংকটের কারণে তাঁরা হলে আসন পাননি। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে ক্যাম্পাসের বাইরে মেস, বাসা বা কটেজে থাকছেন। মেস বা বাসার সঙ্গে কটেজের পার্থক্য হলো, এতে রান্নার কোনো ব্যবস্থা নেই। শৌচাগারও থাকে বাইরে।

মামুন ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসের পাশের একটি স্যাঁতসেঁতে কটেজে ছোট্ট কক্ষে থাকি। ভাড়া দিতে হয় দেড় হাজার টাকা। বাকি টাকা দিয়ে কষ্ট করে পুরো মাস চলতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পেলে এত কষ্ট হতো না।’

একই পরিস্থিতির শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। আবাসনসংকটের কারণে তাঁরা হলে আসন পাননি। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে ক্যাম্পাসের বাইরে মেস, বাসা বা কটেজে থাকছেন। মেস বা বাসার সঙ্গে কটেজের পার্থক্য হলো, এতে রান্নার কোনো ব্যবস্থা নেই। শৌচাগারও থাকে বাইরে। ক্যাম্পাসের আশপাশের বাসায় থাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সময় সংঘাতেও জড়াচ্ছেন। সর্বশেষ গত বছরের আগস্টে এলাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী আহত হন। রাতে বাসায় ঢোকা নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে দারোয়ানের মারধরের জেরে এ সংঘর্ষ হয়।

মাত্র ৪টি বিভাগ ও ২০০ শিক্ষার্থী নিয়ে ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। তখন শিক্ষক ছিলেন মাত্র সাতজন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ৪৮টি, ইনস্টিটিউট ৬টি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬ হাজার ৬৭৮ এবং শিক্ষক রয়েছেন ১ হাজার ১০ জন। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য হল রয়েছে মাত্র ১৪টি। এসব হলে মোট আসন ৬ হাজার ৩৬৯টি। একটি আসনে দু–তিনজন গাদাগাদি করে থাকায় প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছেন। বাকি শিক্ষার্থীদের বাইরে থাকতে হচ্ছে।

মুরগি, মাছ বা ডিমের তরকারি নিলে মনে হয় হলুদ পানিতে সেগুলো ভাসছে। মাঝেমধ্যে বাসি খাবারও পরিবেশন করা হচ্ছে। মুরগি বা মাছের পরিমাণে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই একটি মুরগি ১৫ পিস করে পরিবেশন করা হয়, যা বেশ ছোট আকারের।
আবাসিক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ বিন আমিন

খাবার নিয়েও অসন্তোষ

শুধু আবাসন নয়, শিক্ষার্থীদের খাবার নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। ডাইনিং ও ক্যানটিন—এই দুই ব্যবস্থায় হলের শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করা হয়। দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীই হলের খাবারের ওপর নির্ভরশীল। বাকিরা আশপাশের হোটেলে খান বা নিজেরা রান্না করেন। মূলত ছাত্রীরাই বেশি রান্না করে খান।

বর্তমানে হলে এক বেলা খাবার খেতে খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা। আগে যা ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। অর্থাৎ ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ৩৫ টাকা দিয়ে শিক্ষার্থীরা যতটুকু ইচ্ছা ভাত ও পাতলা ডাল খেতে পারবেন। এর সঙ্গে মুরগি, মাছ, ডিম বা সবজির মধ্যে যেকোনো একটি পদ নিতে পারবেন। আর ৪৫ টাকা দিয়ে একইভাবে ভাত ও পাতলা ডাল থাকে। তবে এই দামে মুরগি, মাছ, ডিম বা সবজির মধ্যে যেকোনো দুটি পদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ এফ রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ বিন আমিন বলেন, মুরগি, মাছ বা ডিমের তরকারি নিলে মনে হয় হলুদ পানিতে সেগুলো ভাসছে। মাঝেমধ্যে বাসি খাবারও পরিবেশন করা হচ্ছে। মুরগি বা মাছের পরিমাণে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই একটি মুরগি ১৫ পিস করে পরিবেশন করা হয়, যা বেশ ছোট আকারের।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলের বাইরের ভাড়া বাসা কিংবা কটেজে থাকা অনেক শিক্ষার্থী হলে এসে খাবার খান। ফলে ডাইনিংয়ে সব সময় ভিড় লেগেই থাকে।

এ ছাড়া খাবারের জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয় শিক্ষার্থীদের। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ডাইনিংয়ে রাতের খাবার পরিবেশন শুরু হলে দেখা যায় লম্বা সারি। রাত ৯টা পর্যন্ত এমন ভিড় থাকে। সম্প্রতি সোহরাওয়ার্দী হলে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলের বাইরের ভাড়া বাসা কিংবা কটেজে থাকা অনেক শিক্ষার্থী হলে এসে খাবার খান। ফলে ডাইনিংয়ে সব সময় ভিড় লেগেই থাকে।

অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাওসিফ হোসেন বলেন, টাকার অভাবে অনেক সময় বাইরে না খেয়ে হলের ডাইনিং বা ক্যানটিনে খেতে হয়। সম্প্রতি এ এফ রহমান হলে খেতে গিয়ে তিনি তরকারিতে পোকা পান। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবু বাধ্য হয়ে সেখানেই খেতে হচ্ছে।

যাতায়াতেও সমস্যা

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান বাহন শাটল ট্রেন। প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী এই ট্রেনে যাতায়াত করেন। সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, ট্রেনের অধিকাংশ বগির দরজা-জানালা ভাঙা। ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রতিটি বগিতে দ্বিগুণ শিক্ষার্থী চলাচল করেন। বেশির ভাগ সময় ফ্যানও চলে না। ফলে তীব্র গরমে ভোগান্তি বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহিয়া তাবাসসুম বলেন, ট্রেনে কিছুদিন পরপরই পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে দুই মাসে অন্তত ১০ শিক্ষার্থীর মাথা ফেটেছে। এরপরও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। আবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায়ই ট্রেনর সূচি বিপর্যয় হয়। সব মিলিয়ে ঝুঁকি নিয়েই তাঁদের যাতায়াত করতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী নির্দেশনা কেন্দ্রের পরিচালক (ছাত্র উপদেষ্টা) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমান প্রশাসন আবাসনসংকট নিরসনে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি শাটল ট্রেনের উন্নয়নে রেলওয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

কতটা বদলেছে পরিস্থিতি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে প্রায় এক দশক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ কার্যত ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) হাতে ছিল। সংগঠনটি আবার দুটি প্রধান বলয়ে বিভক্ত ছিল। একটি সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং অন্যটি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিল। এই দুই বলয়ের অধীনে ১১টি উপপক্ষ সক্রিয় ছিল। উপপক্ষগুলোর বিরুদ্ধে সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে শাসনামলে অন্তত ছাত্রলীগের ১৯০ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে কোনো একক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রকাশ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষও হয়নি। তবে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কয়েকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর বাইরে শিক্ষককে হেনস্তা, মারামারি, ভাঙচুর ও সহিংসতার অন্তত ১৩টি অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের নাম এসেছে।

চলতি বছর ১০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে আসা এক শিক্ষককে হেনস্তা করেন চাকসুর চার নেতা। চাকসু নেতারা ওই শিক্ষককে শারীরিক হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর ও সহ-উপাচার্যের কার্যালয়ে নিয়ে ৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। হেনস্তার শিকার ওই শিক্ষকের নাম হাসান মোহাম্মদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর। ক্যাম্পাসে তিনি আওয়ামী ও বামপন্থী শিক্ষকদের রাজনৈতিক সংগঠন হলুদ দলের একাংশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

প্রায় ৩৫ বছর পর গত বছরের ১৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল ২৫টির মধ্যে ২২টি পদে জয়ী হয়। নির্বাচনী ইশতেহারে হল সংস্কার, আসন ১০ শতাংশ বৃদ্ধি, শাটল আধুনিকায়ন, ই-কার ও বাস সার্ভিস বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল। তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক ও মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার বলেন, ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়। কিন্তু আবাসনসংকট, প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা, দলীয়করণ ও শিক্ষা পরিবেশের উন্নয়ন না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বিগত ২১ মাসে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের স্বার্থের চেয়ে দলীয় ও ব্যক্তিস্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে।

অবশ্য কিছুটা ভিন্নমত প্রকাশ করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নাট্যকলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খান তালাত মাহমুদ। তাঁর মতে, এখন শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতামত ও দাবি প্রকাশ করতে পারছেন। তবে ভবিষ্যতে সহিংসতা বাড়লে এই ইতিবাচক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রায় ৩৫ বছর পর গত বছরের ১৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল ২৫টির মধ্যে ২২টি পদে জয়ী হয়। নির্বাচনী ইশতেহারে হল সংস্কার, আসন ১০ শতাংশ বৃদ্ধি, শাটল আধুনিকায়ন, ই-কার ও বাস সার্ভিস বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল। তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

চাকসুর ভিপি মো. ইব্রাহীম বলেন, আবাসন বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে তা বাস্তবায়নের আশা করছেন তাঁরা। শাটল ট্রেন সংস্কারের জন্য রেলওয়ের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে নিয়োগ বিতর্ক ছিল। অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়েও সেই বিতর্ক বন্ধ হয়নি। সাবেক উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ -১৬ মার্চ ২০২৬) তাঁর মেয়াদে প্রায় ৪০০ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। এসব নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন সংগঠন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, দীর্ঘ ২৩ বছরে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি, টেন্ডার–বাণিজ্য ও চাকরির বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের মতো অনিয়ম ছিল। ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতির কিছু পরিবর্তন হলেও পুরোনো অভ্যাস পুরোপুরি বদলায়নি। কিছু ক্ষেত্রে তা আড়ালে আরও বেড়েছে। তাঁরা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যা ছিল আবাসনসংকট। অল্প সময়ে এত বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন হল নির্মাণের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) জমা দেওয়া হয়েছে। রেল সংযোগ সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগের তুলনায় সংঘর্ষ, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা কমেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে তাঁরা কাজ করছেন। শিগগিরই এর ফল পাওয়া যাবে।