ফতুল্লায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে তরুণকে বেদম পিটুনি

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় আজ শনিবার সকালে ফতুল্লা মডেল থানায় ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা আসেনছবি: প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে হীরা (২১) নামের এক তরুণকে বেদম পিটিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁকে গুরুতর অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল (২২) নামের আরও এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক–সার্কেল) মো. শামীম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আজ শনিবার সকালে ভুক্তভোগী শিশুটিকে নিয়ে তার পরিবার থানায় এসে অভিযোগ দিয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়েছেন উত্তেজিত জনতা। পরে তাঁকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত অপর ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলার সময় কৌশলে তাকে ডেকে নিয়ে দুই তরুণ যৌন নির্যাতন করেন। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে প্রথমে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে শিশু ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত হীরাকে বেদম পিটুনি দেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপর অভিযুক্ত ব্যক্তি সোহেলকে আটক করে।

আজ সকালে ফতুল্লা মডেল থানায় শিশুকে দেখতে যান জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনসহ অন্যরা। সেখানে ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা।

জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। অপর ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।