আড়াইহাজারে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ আটক ৪

ওসমান গণিছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জমির মাটি কাটা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপির এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও চরপাড়া বিলসংলগ্ন কাউন্দার চক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নিহত ব্যক্তির স্বজন ও এলাকাবাসী পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগসহ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ চারজনকে আটক করেছে।

নিহত ওসমান গণি (৪০) আড়াইহাজার উপজেলার বড় বিনাইচর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওসমান গণি তাঁর পাঁচ সহযোগীকে নিয়ে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও চরপাড়া এলাকার কাউন্দার চক এলাকায় তাঁর মাটি কাটার জায়গা দেখতে যান। সেখান থেকে আসার সময় মুখোশ পরা ২০-২৫ জন লোক অস্ত্রের মুখে তাঁদের পথ রোধ করে। দুর্বৃত্তরা ওসমান গণিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলাদা করে ফেলে। একপর্যায়ে তাঁকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য দুজনকেও মারধর করা হয়। দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই বিএনপি নেতাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওসমান গণির সহযোগী রায়হান বলেন, ‘মাটি কাটায় নিযুক্ত শ্রমিকদের খাবার রুটি–কলা দিয়ে সেখান থেকে চলে আসার সময় মুখোশ পরা একদল লোক অস্ত্রের মুখে ঘেরাও করে ফেলে। আমাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রেখে সন্ত্রাসীরা ওসমান গণিকে কুপিয়ে জখম করে।’

পুলিশ জানায়, ওসমান গণির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন ও সমর্থকেরা বৃহস্পতিবার সকালে আড়াইহাজার-গাউছিয়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁরা দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেন। সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রমজান আলীসহ তাঁর সহযোগী সোলায়মান, সুমন ও রমজান মিয়াকে আটক করেছে।

ওসমান গণির ভাতিজা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব জুবায়ের হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, চকের জমি থেকে মাটি কাটা নিয়ে তাঁর চাচা ওসমান গণির সঙ্গে দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রমজান আলীর এক লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া নিয়ে বিরোধ ছিল। এ ছাড়া পাশের গ্রামের নাঈমসহ কয়েকজন চাঁদা দাবি করেছিলেন। এই বিরোধের জেরে তাঁর চাচাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ওসমান গণি ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হলেও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পাশের দুপ্তারা ইউনিয়নের চকের জমি থেকে মাটি কেটে নিচ্ছিলেন। এ নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রমজান আলীসহ অন্য নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। ভাগ–বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, একটি জমির মাটি কাটা নিয়ে বিএনপি নেতা ওসমান গণির সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রমজান আলীর বিরোধ ছিল। বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রমজানসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এর আগেও চকে মাটি কাটার কারণে জরিমানা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেড় মাস আগে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নে মাটি কাটার অভিযোগে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। রাতের আঁধারে মাটি কাটার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি আবার সামনে চলে আসে। মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’