সুন্দরবনের পাশে অনুমতি ছাড়াই গড়ে উঠছে একের পর এক ইকোকটেজ

সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা ইকোকটেজ নির্মাণ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। আজ রোববার খুলনা নগরের সিএসএস আভা সেন্টারেছবি: প্রথম আলো

সুন্দরবনের পাশে একের পর এক গড়ে উঠছে ইকো রিসোর্ট ও কটেজ। এসব সুন্দরবনের মধ্যে না হলেও জায়গাটি বাস্তুসংকটাপন্ন এলাকার (ইসিএ) আওতায়। এসব এলাকায় সাধারণত কোনো বসতি বা ইকোকটেজ নির্মাণ করতে গেলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী এলাকায় গড়ে ওঠা ইকোকটেজ ও রিসোর্টগুলোর কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। এমনকি কটেজ-রিসোর্ট গড়ে তোলার জন্য কোনো নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে একসময় ইকোকটেজের নামে এই এলাকা বস্তিতে পরিণত হবে।

আজ রোববার খুলনা নগরের সিএসএস আভা সেন্টারে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা। সেই সঙ্গে দ্রুত এ–সংক্রান্ত নীতিমালা করার দাবি জানান তাঁরা। এলাকার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে সেই নীতিমালা যেন মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে, সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বক্তারা। ‘ওয়ার্কশপ অন বেজলাইন স্টাডি অন কমিউনিটি–বেজড ইকোট্যুরিজম (সিবিইটি) অ্যারাউন্ড সুন্দরবন’ শীর্ষক ওই কর্মশালার আয়োজন করে ইসলভ ইন্টারন্যাশাল লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি সংস্থা।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য ননী গোপাল মণ্ডল। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. ফিরোজ শাহ, খুলনা অঞ্চলের প্রধান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে, খুলনা অঞ্চলের ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ও খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইসলভ ইন্টারন্যাশাল লিমিটেডের স্যোশিও-ইকোনোমিক বিভাগের প্রধান মো. মঞ্জরুল হুদা। কর্মশালার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কথা বলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আতিকুল ইসলাম। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিবিইটি প্রকল্পের দলনেতা এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি ও উড টেকনোলোজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. ওয়াসিউল ইসলাম।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, গত কয়েক বছরে বাগেরহাটের মোংলা, খুলনার দাকোপের ঢাংমারী ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকায় সুন্দরবনের একেবারে পাশে কিছু ইকোকটেজ গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইকোকটেজ গড়ে উঠছে ঢাংমারী এলাকায়। ২০১৮ সালে ইকোকটেজ ছিল মাত্র তিনটি। ২০২৩ সালে ওই এলাকায় ১২টি ইকোকটেজ তৈরি হয়েছে, যার ৭৪টি কক্ষে ট্যুরিস্ট ধারণক্ষমতা ছিল ২৬০ জন। চলতি বছর সেখানে আরও ৫৮ কক্ষবিশিষ্ট ৮টি নতুন কটেজ তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া ৭টি পুরোনো কটেজে ৪২টি কক্ষ নতুন করে তৈরির কাজ চলছে। সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ সেখানে ৫৬০ জন ধারণক্ষমতার বড় আকারের ২০টি কটেজ প্রস্তুত হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, কটেজগুলোকে কমিউনিটি–বেজড ইকোকটেজ বলা হলেও মূলত সেখানে স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততা খুবই কম। ইকোকটেজের যেসব ধারণা সেখানে থাকার কথা, তা–ও নেই। সুন্দরবনের পাশে ইকোকটেজ তৈরির নীতিমালা না থাকায়, যে যাঁর মতো করে কটেজ তৈরি করছেন। এ ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর বা বন বিভাগের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না কেউ। নীতিমালা প্রণয়ন করে এখনই এর লাগাম টেনে ধরতে না পারলে, একসময় সুন্দরবন এলাকা বস্তি এলাকায় পরিণত হবে।

সংসদ সদস্য ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, সুন্দরবন আজ অবক্ষয়ের পথে। সুন্দরবনে সুন্দরীগাছ কমে গেছে, এর উচ্চতাও কমে যাচ্ছে। তবে সুন্দরবনকে ঘিরে তাঁদের অনেক প্রত্যাশা। মানুষ জীবিকার চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে সুন্দরবনকে বিপর্যস্ত করে ফেলছে। প্রযুক্তি প্রসারের পাশাপাশি এলাকায় ইকোট্যুরিজম প্রসারিত হয়েছে। সঠিক নিয়মের মধ্যে থেকে ইকোট্যুরিজম করার আহ্বান জানান তিনি।