পার্বত্য চুক্তি আদায় করে ছাড়ব, কোনো শিথিলতা হবে না: ঊষাতন তালুকদার
‘পার্বত্য চুক্তি আদায় করে ছাড়ব, কোনো শিথিলতা দেওয়া হবে না। নো এক্সকিউজ (কোনো অজুহাত নয়)। কালক্ষেপণ করলে ফলাফল কী হবে, এটি সময়ই বলে দেবে।’
আজ বুধবার এক সমাবেশে এ কথাগুলো বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলার কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ হয়। তিনি এ সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন।
ঊষাতন তালুকদার বলেন, ‘আমরা বিএনপিকে ভোট দিয়েছি। আমাদের জন্য প্রতিদানে কী করবেন, সেটি আপনাদের ব্যাপার। বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের তিন মাস অতিক্রম হয়েছে। এখনো সুস্পষ্ট কিছু বলেনি। সময় অনেক গড়িয়েছে, চুক্তি বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ করা যাবে না।’
সভাপতির বক্তব্যে পিসিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি রুমেন চাকমা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামকে অঘোষিতভাবে কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। এ অবস্থার অবসান না হলে পার্বত্য চুক্তির পূর্ববর্তী সময়ে ফিরে যেতে বাধ্য হব।’
সমাবেশে শিক্ষাবিদ শিশির কান্তি চাকমা বলেন, ৩৭ বছরে পিসিপি আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের লড়াই চালিয়ে গেছে। এ জন্য সাধারণ মানুষের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। সামনে কঠিন দিন আসছে, সংগ্রাম ছাড়া বিকল্প নেই। পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি সম্ভব। দীর্ঘ ২৮ বছরে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করলে পার্বত্য অঞ্চলে অশান্তি হতো না। ভূমি কমিশন গঠন হলেও তা ফলপ্রসূ কোনো অগ্রগতি হয়।
সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি হয়েছে। চুক্তি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ভূমি কমিশন তৈরি করে ভূমি অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকেও বিগত সরকার চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করেনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, হিল উইমেন ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক উলিসিং মারমা, পিসিপির সহসভাপতি জিকো চাকমা প্রমুখ।