ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই বিজয় এক্সপ্রেস ছেড়েছে সোয়া তিন ঘণ্টা দেরিতে

জামালপুর-চট্টগ্রাম রেলপথে চলাচল করা বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনফাইল ছবি

ঈদযাত্রার প্রথম দিনে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে জামালপুরগামী বিজয় এক্সপ্রেস ছেড়েছে সোয়া তিন ঘণ্টা দেরিতে। দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রীদের স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ভোগান্তি নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

আজ শনিবার থেকে ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। সকাল সোয়া ৯টায় বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল। যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এসে হাজির হয়েছিলেন। অনেকের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের দেখা যায়। পরে এই ট্রেন ছাড়ে দুপুর সাড়ে ১২টায়।

চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করা অন্য সব আন্তনগর ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়েছে। এসব ট্রেনের যাত্রীদের ঈদযাত্রা স্বস্তির ছিল। চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের উদ্দেশে দুটি, ঢাকার উদ্দেশে পাঁচটি, চাঁদপুরের উদ্দেশে একটি এবং কক্সবাজারের উদ্দেশে দুটি আন্তনগর ট্রেন ছেড়ে যায় সময়মতো। এর বাইরে মেইল ও লোকাল ট্রেনও ঠিক সময়ে চলাচল করে।

চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী এলাকায় থাকেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাব্বির হোসেন। স্ত্রী ও মেয়ে যাবেন গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। তাঁদের ট্রেনে তুলে দিতে এসেছিলেন তিনি। চাকরির কারণে আরও দুদিন পর যাবেন তিনি। বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই গরমে বাচ্চাদের বসে থাকতে হচ্ছে। কখন ট্রেন আসবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এভাবে হলে তো ঈদযাত্রা কষ্টের হয়ে যাবে।

বিজয় এক্সপ্রেস দেরিতে ছাড়ার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। মো. নাঈম হোসেন বলেন, দেখার কেউ নেই। মানুষের সময়ের কোনো মূল্য নেই। মো. সাখাওয়াতুল ইসলাম নামের আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদে যাত্রীরা হয়রানির শিকার হবেন, এ আর নতুন কী?

নির্ধারিত সময়ের চেয়ে সোয়া তিন ঘণ্টা দেরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম রেলওয়ের স্টেশনমাস্টার আবু জাফর মজুমদার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিজয় এক্সপ্রেস জামালপুর থেকে ফিরতে দেরি হয়েছিল। এ জন্য চট্টগ্রাম থেকে ছাড়তে দেরি হয়। কিন্তু অন্যান্য ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে ছেড়েছে। ঈদযাত্রার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সবুক্তগীন। এ সময় তাঁর সঙ্গে রেলওয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।