করোনা খালি হাতে ফেরাল সখিনাকে
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের বাসিন্দা সখিনা বেগম (৫৫) ১৮ বছর আগে বিধবা হন। তারপর জীবিকার তাগিদে নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকার একটি সুতা কারখানায় কাজ নিয়েছিলেন। নিজের ভাইবোনকেও একই কারখানায় কাজ জুটিয়ে দিয়েছিলেন। পরে সেখানেই বাসা ভাড়া নিয়ে তিনজন একসঙ্গে বসবাস করতে থাকেন। এভাবে দেড় যুগ পার হয়ে যায়। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। এমন সময় দেশে করোনার প্রকোপ শুরু হলে সুতা কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হয়। চলতি বছর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর সখিনারও চাকরি চলে যায়।
এরপর থেকেই জীবন-জীবিকা নিয়ে সখিনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। কিছুদিন পর ছাঁটাইয়ে পড়ে তাঁর ভাই ও বোনের চাকরিও যায়। তারপরও করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা নিয়ে ভাড়া বাসায় কয়েক মাস অপেক্ষা করেন তাঁরা। কিন্তু বেকার বসে থেকে সংসার খরচ জোগান দিতে গিয়ে তিন ভাইবোনের জমানো পয়সাকড়ি শেষ হওয়ার দশা হলে সখিনা বেগম নরসিংদীর পাট চুকানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সোমবার তিনি গ্রামের বাড়িতে রওনা দেন। ১৮ বছর চাকরি করে আজ তিনি ফিরেছেন খালি হাতে।
সখিনা বলেন, ভাবতেও পারেননি দেশে একটি প্রাণঘাতী ব্যাধির কারণে তাঁকে দেড় যুগ পর গ্রামের বাড়িতে শূন্য হাতে ফিরে আসতে হতে পারে।
আজ সকালে একটি মিনি ট্রাকে করে সংসারের টুকিটাকি জিনিসসহ সখিনাকে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। নান্দাইল পৌর শহরের পুরান বাজারের প্রমা স্টোরের মোড়ে ট্রাকটি দাঁড় করিয়ে যখন যাত্রী তুলছিল, এ সময় সখিনা বেগমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ভাবতেও পারেননি দেশে একটি প্রাণঘাতী ব্যাধির কারণে তাঁকে দেড় যুগ পর গ্রামের বাড়িতে শূন্য হাতে ফিরে আসতে হতে পারে।
সখিনা বলেন, এ রকম অবস্থা শুধু তাঁর একার নয়। তাঁর কারখানার আরও ১০টি পরিবারের সদস্যদের চাকরি চলে যাওয়ায় তাঁরাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
ট্রাকটি ধীরে ধীরে চলতে শুরু করলে সখিনা বলেন, ‘আঠারো বছর ধরে সুতার কারখানায় কাজ করেছি। গ্রামের বাড়িতে গিয়ে এখন কী করব, সেই চিন্তায় আছি।’