খুলনা মেডিকেলে প্রস্তুত হচ্ছে ডেঙ্গুর পৃথক ওয়ার্ড
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে। আজ সোমবার বিকেলে খুলনা জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ মেহেদী নেওয়াজ এ কথা জানান। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় প্লাটিলেট দিতে হাসপাতালে সেলফ সেপারেটর মেশিন প্রয়োজন। যার মাধ্যমে সুস্থ মানুষের রক্ত থেকে প্লাটিলেট আলাদা করে ডেঙ্গু রোগীর শরীরে দেওয়া যাবে।
হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর সঙ্গে দেখা করতে আসা ব্যক্তিদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা ও করোনা রোগীর সেবাদানকারীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে তাগিদ দেন উপাধ্যক্ষ মেহেদী নেওয়াজ। তিনি বলেন, বাড়িতে গিয়ে যাঁরা অক্সিজেন সেবা দেন, তাঁদের করোনা রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের মাত্রা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। কেননা, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ করলে রোগীর ক্ষতি হতে পারে।
খুলনার জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. কামাল হোসেন ও খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) কামাল হোসেন বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রণ ও আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া প্রত্যন্ত এলাকায় করোনার গণটিকা কর্মসূচিতে অন্যদের সঙ্গে ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের করোনা টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
খুলনা জেলায় পবিত্র ঈদুল আজহার আগের ১০ দিনের তুলনায় পরের ১০ দিনে করোনা শনাক্তের হার ও মৃত্যু উভয় কমেছে বলে মন্তব্য করেন জেলা সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, করোনা রোগীদের জন্য খুলনার সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অক্সিজেন সেবাসহ ২০টি শয্যা প্রস্তুত আছে। করোনায় কর্মহীনদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণসামগ্রী বিতরণ চলমান। প্রয়োজনে ৩৩৩ নম্বরে ফোন কলের মাধ্যমে খাদ্যসহায়তা প্রাপ্তির বিষয়ে প্রচার–প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. ইকবাল হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) তানভীর আহমদ, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম জাহিদ হোসেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মাহবুব আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সেলফ সেপারেটর যন্ত্র নিয়ে গত ৯ মে প্রথম আলোতে ‘খুলনা মেডিকেলের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রটি সাত মাস ধরে বিকল’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।