বন্যার পানিতে মজুত করা সব ধান ভেসে গেছে মুজিবুরের
টিনের চালার ঘর। চারদিকে বাঁশের বেড়ার ওপর মাটির প্রলেপ দেওয়া। তবে বেড়ার নিচের অংশে মাটি নেই। দুপুরের রোদ ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে প্রবেশ করে ঘর আলোকিত করেছে। কেবল ঘরে থাকা সম্বলই ভেসে গেছে মুজিবুর রহমানের (৩৫)।
মুজিবুরের বাড়ি সিলেটের গোয়াইনঘাটের তোয়াকুল ইউনিয়নের সোনার বাংলা গ্রামে। আজ রোববার দুপুরে তিনি ঘরের দরজার পাশের বেড়ার নিচের অংশে ফালি করে কাটা বাঁশ বাঁধছিলেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী কমলা বেগম (২৮)। ঘরের ভেতরের এক পাশে উগার (ধান গুদামজাত করতে বেতের তৈরি বড় ঝুড়ি) মেঝেতে ফেলা। পাশে মাটির স্তূপ।
মুজিবুর রহমান বলেন, ঘরে বন্যার পানি বাড়তে থাকায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পাশের একটি বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘরে সাত বস্তা ধান কাঠের ওপর তুলে রেখেছিলেন। এ ছাড়া ঘরের হাঁড়িপাতিলও রেখেছিলেন সেগুলোর ওপরে। বন্যার পানি সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে দুই দিন থাকার পর ঘর দেখতে গিয়ে বেড়া ভাঙা অবস্থায় পান মুজিবুর। দরজা তখন একপাশে ঝুলে ছিল। ভেতরে ঢুকে দেখেন ধানের বস্তাও ভেসে গেছে। মেঝেতে কিছু ধান পড়া ছিল, সেগুলো কয়েকটি হাঁস ডুব দিয়ে খাচ্ছে।
মুজিবুর ও কমলা বেগমের চার ছেলেমেয়ে। মুজিবুর দিনমজুরি করে ছয়জনের সংসার চালান। তিনি বলেন, এক মহাজনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে ভাঙা ঘর মেরামত শুরু করেছেন। কিন্তু ঘরে যেটুকু ধান ছিল, সেগুলো তো ভেসে গেছে। এখন পরিবারের অন্নের ব্যবস্থা নিয়ে তিনি চিন্তিত।