বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ী রুটে ভ্রমণ ভিসা চালুর দাবি
পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পোস্ট দিয়ে বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ী রুটে ভ্রমণ ভিসা চালুর দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মিলনায়তনে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি আবদুল লতিফ তারিন সভাপতিত্ব করেন। এ সময় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে কুদরত-ই-খুদা বলেন, ১৯৯৭ সালে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে কার্যক্রম শুরুর পর পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের সঙ্গে নেপাল, ভারত ও ভুটানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও ভারতের ফুলবাড়ী স্থলবন্দর রুটে ইমিগ্রেশন (মানুষ পারাপার) ব্যবস্থা চালু হয়। এর পর থেকে পর্যটক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসা নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা এই বন্দর স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে থাকেন। এতে সরকারের রাজস্ব আদায় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে।
সংবাদ সম্মেলনে কুদরত-ই-খুদা আরও বলেন, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি শুরু হলে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরেও মানুষ পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, করোনা সংক্রমণ কমে গেলে দেশের অন্য স্থলবন্দরগুলোর মতো বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে মানুষ পারাপার চালু হয়। তবে কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ী রুট ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না ভারতীয় হাইকমিশন। এতে পর্যটক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও ভারতে চিকিৎসা নিতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও মানুষের কথা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই বন্দর দিয়ে বাংলাদেশিদের ভারতে যাতায়াতের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ডিজিটাল ওজন স্কেলে দীর্ঘদিন ধরে কারসাজি হয়ে আসায় ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ লোকসান হয়েছে অভিযোগ করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ী স্থলবন্দরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেরও দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শরিফ হোসেন, সাবেক সভাপতি আবদুল হান্নান শেখসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ার পর বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন দিয়েও মানুষ পারাপার শুরু হয়েছিল। সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা থেকে দেওয়া ভিসায় ভারতীয় হাইকমিশন এই বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ী রুট ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। ১৮ মার্চের পর থেকে বাংলাদেশিরা এই রুটে ভিসা পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে আমরা ভারতের ফুলবাড়ী ইমিগ্রেশনের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। শিগগিরই এই রুটে বাংলাদেশিদের ভিসার অনুমতি মিলবে বলে ফুলবাড়ী ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’