মা নিখোঁজ, সংবাদ পেয়ে বাইসাইকেলে ২১০ কিলোমিটার পাড়ি দিলেন ছেলে
মুঠোফোনে মায়ের নিখোঁজ সংবাদ পেয়ে বাইসাইকেলে ২১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের এক যুবক। কঠোর বিধিনিষেধের কারণে যানবাহন না চলায় গত শনিবার রাতে ১৪ ঘণ্টা সাইকেল চালিয়ে তিনি ঢাকা থেকে কমলগঞ্জে যান। তবে আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত নিখোঁজ মায়ের সন্ধান পাননি সোহেল আহমেদ (৩৪) নামের এই যুবক।
সোহেলদের বাড়ি উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের লঙ্গুরপাড় গ্রামে। তাঁর মায়ের নাম হাজেরা বিবি (৫০)। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে তিনি নিখোঁজ। সোহেলের বাবার নাম মানিক মিয়া। তিনি প্রায় ২০ বছর আগে নিখোঁজ হন। আজও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই (বুধবার) রাতে একই গ্রামে বড় ভাই আসিদ আলির বাড়িতে রাতের খাবার খান হাজেরা বিবি। এরপর তিনি প্রতিবেশী রকিব মিয়ার বাড়িতে রাত্রিযাপন করেন। বৃহস্পতিবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে রকিব মিয়ার স্ত্রীকে চা দেওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। এরপর হাজেরা বিবি আর ফিরে আসেননি।
হাজেরার ভাই মাধবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আসিদ আলি বলেন, ওই দিন সকালে বোনের বাড়িতে গিয়ে দেখেন দরজা তালাবদ্ধ। বাইরের বাতি জ্বলছে। গোয়ালঘরে গাভিগুলোও ডাকাডাকি করছে। তখন তিনি আশপাশের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশী রকিব মিয়ার স্ত্রী তাঁকে জানান, রাতে হাজেরা তাঁদের বাড়িতে ঘুমিয়েছিলেন। ভোরে চা বানিয়ে রাখতে বলে ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরে সম্ভাব্য আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় গত শুক্রবার বিকেলে কমলগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।
আসিদ আলি বলেন, শনিবার (৩১ জুলাই) মুঠোফোনে ঘটনাটি ঢাকায় অবস্থানকারী সোহেল আহমেদকে জানান। সোহেল মায়ের নিখোঁজের খবর শুনে বাড়ির পথে রওনা দেন। তবে কঠোর বিধিনিষেধে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় তিনি একটি বাইসাইকেল জোগাড় করেন। সেটি নিয়ে শনিবার রাত ১১টায় ঢাকা থেকে রওনা দেন। ১৪ ঘণ্টা পর রোববার বেলা ১টা নাগাদ তিনি কমলগঞ্জের লংগুরপাড় গ্রামে বাড়িতে পৌঁছান। এরপর লোকজন নিয়ে সারা দিন বাড়ির আশপাশের প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকার ঝোপঝাড়, খাল, ডোবা, পুকুরসহ আত্মীয়স্বজনের বাড়ি তন্নতন্ন করে খোঁজ করেন। তবে মা হাজেরা বিবির কোনো সন্ধান পাননি।
সোহেলের খালাতো ভাই সেলিম মিয়া জানান, প্রায় ২০–২১ বছর আগেও একইভাবে সোহেলের বাবা মানিক মিয়াও নিখোঁজ হয়েছিলেন। যাঁর সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সোহেল ঢাকায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরি করেন। এলাকায় আগে থেকে সাইকেল চালাতেন। তাই এত দূরের পথ সাইকেল চালিয়ে পাড়ি দিতে পেরেছেন।
কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা জানান, নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। নিখোঁজ গৃহবধূকে খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।