সুনামগঞ্জে বন্যার পানি কমছে, দেখা দিচ্ছে নানা রোগবালাই

সুনামগঞ্জে গ্রামীণ সড়কগুলো থেকে বন্যার পানি না নামায় এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে থাকছেন অনেকে। ছবি আজ রোববার তোলা
ছবি: খলিল রহমান

সুনামগঞ্জে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে বাড়িঘরে পানি থাকায় এখনো অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আছে। পৌর শহরের মানুষ বাড়িঘরে ফিরতে পারলেও গ্রামের অনেকেই পারছে না।

এখনো জেলার জগন্নাথপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় পানিবন্দী মানুষ আছে। এসব উপজেলার নিচু এলাকায় বাড়িঘর, রাস্তাঘাটে আছে বন্যার পানি। জেলা–উপজেলার মূল সড়কগুলো থেকে পানি নামলেও ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়ক এখনো পানিতে প্লাবিত। পানি নামার পর নানা রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। এর মধ্যে ডায়রিয়াসহ পেটের পীড়াই বেশি, সঙ্গে রয়েছে চর্মরোগ।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৬২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। পানি কমতে শুরু করায় অনেকেই বাড়িঘরে ফিরেছে। এখনো ৩০০ আশ্রয়কেন্দ্রে ৫০ হাজারের মতো মানুষ আছে। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত বন্যায় সুনামগঞ্জে ৯০ হাজার পরিবারের সাড়ে ৪ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মারা গেছে ১৫ জন।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত জানিয়েছেন, পৌরসভার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বেশির ভাগ মানুষই বাড়িঘরে ফিরেছে। এখন যারা আছে, তারা শ্রমজীবী মানুষ। অনেকের বাড়িঘর নিচু এলাকায়। আবার কারও কারও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ফিরতে সমস্যা হচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী জানান, তাহিরপুরে এখনো বহু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আছে। এখনো মানুষের বাড়িঘরে, রাস্তাঘাটে পানি আছে। পানি কমছে, তবে খুবই ধীরে। এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। এ উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার বাড়িঘর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সুলকাবাদ ইউনিয়নের চালবন্ধ গ্রামের বাসিন্দা জাহানারা বেগম জানান, বন্যার পানি তাঁর ঘর থেকে নামলেও উঠানে এখনো আছে। দীর্ঘ সময় পানি থাকায় তাঁর নার্সারির ৩০ হাজার গাছের চারার ক্ষতি ও পুকুরের ২০ হাজার মাছের পোনা ভেসে গেছে।

সুনামগঞ্জে এক সপ্তাহ ধরে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে না। রাতে কেবল হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার থেকে রোদ আছে। এ সময় পাহাড়ি ঢলও নামেনি। এ কারণে জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। তবে পানি কমছে ধীরে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জেলার দু–তিনটি উপজেলায় এখনো পানি আছে। তবে সব জায়গার পরিস্থিতিই উন্নতির দিকে। ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত আছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুরমা নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচে আছে। পানি কমছে। আগামী ৭১ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা নেই। তবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

সুনামগঞ্জে ১৬ জুন থেকে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। জেলার প্রতিটি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। অসংখ্য বাড়িঘর, অফিস-আদালত, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। টানা চার দিন জেলাটি সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এ সময় মুঠোফোনের নেটওয়ার্কও বন্ধ ছিল। সুনামগঞ্জ পৌর শহরে চার থেকে সাত ফুট পানি হয়। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নেয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। তবে গত পাঁচ দিন বৃষ্টি না হওয়ায় বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।