সুনামগঞ্জে বন্যার পানি ধীরে নামছে, বাড়ি ফিরতে পারছে না মানুষ

পানি কমতে শুরু করায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের চলাচল বাড়তে দেখা গেছে
ছবি: প্রথম আলো

সুনামগঞ্জে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে খুব ধীরগতিতে পানি নামছে। এ কারণে বন্যাকবলিত মানুষ এখনই বাড়িতে ফিরতে পারছে না। শহরের রাস্তাঘাট ও মানুষের বাড়িঘরে এখনো বন্যার পানি রয়েছে। এদিকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ শহরের কাছে আজ মঙ্গলবার সকালে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আজ সকাল থেকে সুনামগঞ্জ শহর এর আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি হয়নি।

সুনামগঞ্জে গত বৃহস্পতিবার থেকে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলা সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ ছিল। গত চার দিন সুনামগঞ্জ ছিল বিদ্যুৎহীন। এদিকে শহরের রাস্তাঘাটে তিন থেকে ছয় ফুট পর্যন্ত পানি ছিল। এতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। তবে তিন দিন ধরে বৃষ্টিপাত ধীরে ধীরে কমায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আজ সকাল মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক সচলের পাশাপাশি অল্প কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ–সংযোগ ফিরে এসেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের প্রায় ৭০ ভাগ বাড়িঘরে এখনো বন্যার পানি রয়েছে। তাই বন্যাকবলিত মানুষ এখনই বাড়ি ফিরতে পারছে না। তবে পানি কমতে শুরু করায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু দোকানপাট খুলেছে। শহরে বেশির ভাগ রাস্তাঘাট এখনো প্লাবিত। এসব সড়কের কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমরসমান পানি। মধ্যশহরের কিছু এলাকায় বাড়িঘর থেকে পানি নেমেছে। মধ্যশহর ছাড়া অন্যান্য এলাকায় এখনো নৌকা ছাড়া অন্য যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। খাবার পানির সংকট রয়েছে সর্বত্র। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় একইভাবে পানি ও খাবারের সংকট আছে।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের প্রায় ৭০ ভাগ বাড়িঘরে এখনো বন্যার পানি রয়েছে
ছবি: প্রথম আলো

ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিবারসহ আশ্রয় নেওয়া রিকশাচালক ইয়াকুব আলী (৬০) বলেন, ‘ঘরে এখনো কোমরপানি। কবে ফিরতে পারব জানি না। বড় কষ্টে আছি। এখানে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না।’

একই এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বাড়িঘরের সব নষ্ট হয়ে গেছে। টাকাপয়সাও হাতে নাই। কিতক খরমু চিন্তায় আছি।’

পুরো জেলার মধ্যে সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী জেলায় প্রায় ৫০০ আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ ছাড়া মানুষের উঁচু বাড়িঘর, অফিস-আদালত, হাসপাতাল, যেখানেই সুযোগ পেয়েছে, সেখানেই বানভাসি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এখনো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আছে।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. নাদের বখত জানান, শহরে পানি ধীরে ধীরে কমছে। তবে মানুষের বাড়িঘরে ফেরার মতো অবস্থা হয়নি। এখনো অনেক এলাকা প্লাবিত। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় সাধ্যমতো শুকনা ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সুনামগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত আছে। জেলায় এখন পর্যন্ত ৭৮০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৮০ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার ১০ হাজার বস্তা খাদ্যসামগ্রী এবং শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় জেলাজুড়ে ত্রাণ বিতরণ চলছে। ত্রাণের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত ত্রাণ, নগদ টাকা আছে। আরও ত্রাণ আসছে। ত্রাণ তৎপরতা আরও জোরদার করা হচ্ছে।