হোটেলে কাজ করা সেই জনপ্রতিনিধি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে খাবার হোটেলে কাজ করে সংসার চালানো সেই জনপ্রতিনিধি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত রোববার দুপুরে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের ৩ নম্বর সংরক্ষিত মহিলা আসনের (৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড) সদস্য মোছা. খোদেজা খাতুন (৭০) সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে খোদেজার ভাই আবদুর রাজ্জাক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, গত রোববার হোটেলের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে খোদেজা উপজেলার আসানবাড়ি এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন। এ ছাড়া বাম হাতের কবজিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পেয়েছেন।
ইউপি সদস্য খোদেজা দুবারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী খোদেজার বয়স এখন ৭০ বছর। তিনি হোটেলে দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হোটেলে বাসন ধোয়া, মাছ-তরকারি কোটা ও মসলা বাটার কাজ করেন খোদেজা। এ জন্য দিনে পারিশ্রমিক পান ১৫০ টাকা। সঙ্গে দুই বেলা খাওয়া। খোদেজা খাতুনের সংগ্রামী জীবনের কথা তুলে ধরে গতকাল বুধবার প্রথম আলোতে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
খোদেজা খাতুনের স্বামী আবু তাহের বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর বিভিন্নজনের কাছ থেকে ধার করে ও জমানো টাকা মিলে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। এরপর ইউএনও স্যার ও চেয়ারম্যান সাহেব কিছু সহযোগিতা করেছেন। স্ত্রীর সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চাই।’
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ সুশান্ত কুমার সরকার প্রথম আলোকে বলেন, খোদেজা খাতুনকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। এখন তাঁর জ্ঞান ফিরেছে। বর্তমানে নাকে নল দিয়ে খাবার দেওয়া হচ্ছে। বাম হাতের একটি হাড় ভেঙে গেছে এবং তাঁর মাথায় আঘাত আছে। এখান তাঁর হাতে অস্ত্রোপচার করতে হবে।
তাড়াশের ইউএনও মো. মেজবাউল করিম বলেন, প্রাথমিকভাবে আহত খোদেজা খাতুনকে ২০ হাজার টাকা সহযোগিতা করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খোদেজা তাঁর স্বামী আবু তাহেরের সঙ্গে উপজেলার বিনসাড়া বাজারের পশ্চিম পাশে মনিপুকুরপাড়ে সরকারি খাসজমিতে এক কক্ষের একটি টিনের ঘরে থাকেন। টিনের বেড়া ও মাটির মেঝের ঘরটিতে গরম–শীত সব ঋতুতেই কষ্ট হয় বয়স্ক এ দম্পতির। সেখানে নেই স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী খোদেজা খাতুনের জন্ম ১৯৫২ সালের ২০ নভেম্বর। উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামের কেতাব আলীর মেয়ে তিনি। খোদেজার স্বামী আবু তাহেরের বিনসাড়া বাজারে পান-সুপারির দোকান আছে।
এলাকার অনেক মানুষের কাছে খোদেজা সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অনেকের কাছে রোলমডেল। এলাকার মানুষের ভালবাসায় খোদেজা দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মানুষের জন্য কাজ করবেন, এমনটাই আশা করছেন স্থানীয় লোকজন। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভিলেজ ভিশনের পরিচালক শরিফ খন্দকার বলেন, খোদেজা খাতুনের সুস্থ হয়ে ফিরে আসার অপেক্ষায় আছে সবাই। তাঁকে সুস্থ করে তুলতে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানান তিনি।