৪৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্প বাতিলের দাবি সংগ্রাম কমিটির

যশোরের ভবদহ এলাকায় জলাবদ্ধ ঘরবাড়ি
ফাইল ছবি

যশোরের ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানের জন্য পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে ভবদহ পানিনিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি।

আজ রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে সংগ্রাম কমিটির নেতারা এ দাবি তুলে ধরেন।

স্মারকলিপিতে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার সেচ প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত প্রায় ৪৫ কোটি টাকার ‘ভবদহ ও তৎসংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ’ প্রকল্প বাতিল; ডেলটা প্ল্যান ২১০০–এর সুপারিশ বাস্তবায়ন ও বিল কপালিয়ায় টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) চালু, আমডাঙা খাল সংস্কারকাজ দ্রুত করা; প্রি-ওয়ার্ক ও পোস্ট ওয়ার্ক জনসমক্ষে টাঙিয়ে দেওয়া, কাজের স্বচ্ছতা নিরূপণে আন্দোলনকারী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সেনাবাহিনীকে সংশ্লিষ্ট করে তদারকি কমিটি গঠন; খালের স্লুইসগেট ওঠানো-নামানোর কাজ বন্ধ করার সঙ্গে জড়িত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, জনপদের ফসল, বাড়িঘরসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা, কৃষি ঋণ মওকুফ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারকে মিথ্যা তথ্য প্রদান, নদী হত্যা, বসতবাড়ি ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে জড়িত পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়।

ভবদহ এলাকার প্রায় ২০০ গ্রামের ১০ লাখ মানুষ একটি সিন্ডিকেটের লুটপাটের শিকার হয়ে স্থায়ীভাবে পানির নিচে তলিয়ে যেতে বসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে স্মারকলিপিতে। উদ্ভূব হয়েছে মহাবিপর্যয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, ঠিকাদার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও ঘেরমালিকেরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে প্রতিবছর জনগণকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা লুটের স্থায়ী ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। তাঁদের কাছে ভবদহ হলো ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে’। এ চক্র এতই ক্ষমতাবান যে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। ফলে ভবদহ স্লুইসগেট থেকে মোহনা পর্যন্ত ৫০-৬০ কিলোমিটার নদী ভরাট হয়ে গেছে। পানি বের হওয়ার পথ এখন রুদ্ধ। এ পরিণতির কথা বারবার বলা সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় তাতে কর্ণপাত না করে জনপদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীসহ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সরকারকে মিথ্যা তথ্য প্রদান করছে এবং জনমতকে উপেক্ষা করে পাম্পের মাধ্যমে সেচ দিয়ে জলাবদ্ধতা মুক্ত করার অবিবেচনাপ্রসূত প্রকল্প দিয়ে অর্থ অপচয় করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে স্মারকলিপিতে। এতে আরও বলা হয়েছে, পাম্পের মাধ্যমে পানি সেচ দেওয়ার ফলে এলাকায় ব্যাপক ফসল উৎপাদন হয়েছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি বলে সরকারের কাছে তারা মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে পাউবো জনমত উপেক্ষা করে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার সেচ প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং ৪৫ কোটি টাকার সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। এই অর্থ সম্পূর্ণ অপচয় হবে এবং বরাবরের মতো জনদুর্ভোগ মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে স্মারকলিপিতে।

যশোর জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান। পরে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সঙ্গে দেখা করে ভবদহ পানিনিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রতিনিধি দল ভবদহের বর্তমান পরিস্থিতি অবহিত করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির, আহ্বায়ক রনজিত বাওয়ালি, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদ প্রমুখ।