৪৮ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু পাড়ি দিয়েছে প্রায় ৮৩ হাজার গাড়ি

অতিরিক্ত গাড়ির চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে গতকাল রোববার দুপুরে উত্তরবঙ্গমুখী লেনে যানজটের সৃষ্টি হয়। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায়
ফাইল ছবি

গত দুই দিনে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ৮২ হাজার ৭৯৭টি গাড়ি পারাপার করেছে। সাধারণত দুই ঈদ ছাড়া এত বিপুলসংখ্যক যানবাহন পারাপারের রেকর্ড নেই। দুই দিন সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ৫ কোটি ৩৯ লাখ ১৫ হাজার ৬৭০ টাকা।

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে গত রোববার থেকে পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন তৈরি পোশাক কারখানার মালিকেরা। উত্তরবঙ্গ থেকে শ্রমিকেরা বিভিন্ন গাড়িতে করে কর্মস্থলে ফেরেন। এ কারণে গত দুই দিনে এত বেশি গাড়ি পারাপারের ঘটনা ঘটেছে বলে সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু টোল প্লাজা সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ৪৪ হাজার ৮৫৭টি গাড়ি পারাপার হয়েছে। টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৬০ লাখ ৬২ হাজার ৩৬০ টাকা। এর মধ্যে সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে ২৭ হাজার ৯৮৯টি গাড়ি টাঙ্গাইলের দিকে গেছে। টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৪২ হাজার ৩৪০ টাকা। পূর্বপ্রান্ত থেকে ১৬ হাজার ৮৬৮টি গাড়ি সিরাজগঞ্জের দিকে গেছে। এ থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ ২০ হাজার ২০ টাকা।

রোববার সকাল ৬টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ৩৭ হাজার ৯৪০টি গাড়ি পারাপার হয়েছে। টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার ৩১০ টাকা। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের দিকে গেছে ১৭ হাজার ৩৪৪টি গাড়ি। টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ২৪ লাখ ৪১ হাজার ৫৯০ টাকা। আর সিরাজগঞ্জের দিকে গেছে ২০ হাজার ৫৯৬টি গাড়ি। এ থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ১১ হাজার ৭২০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে স্বাভাবিক সময়ে ১২ থেকে ১৩ হাজার গাড়ি পারাপার হয়। কিন্তু প্রতিবছর ঈদের সময় গাড়ির চাপ অনেক বেড়ে যায়। এ বছর ঈদুল ফিতরের আগের দিন ১৩ মে সেতু দিয়ে ৫২ হাজার ৭৫৩টি গাড়ি পারাপার হয়, যা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে যানবাহন পারাপারে সর্বোচ্চ রেকর্ড। ওই দিন টোল আদায় হয়েছিল ২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। টোল আদায়েও সেটি রেকর্ড ছিল।

আরও পড়ুন

ঈদুল আজহার আগের তিন দিন ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৯৫টি গাড়ি বঙ্গবন্ধু সেতু পারাপার হয়। এ থেকে টোল আদায় হয় ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩২ হাজার ১২০ টাকা।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বঙ্গবন্ধু সেতুর সাইট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর বলেন, ১ আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকেরা বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন গাড়িতে করে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। এতে গত দুই দিন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গাড়ি সেতু পারাপার করে।