বরগুনায় ব্যবসায়ীর করোনা শনাক্তের চার দিন পর স্ত্রীও আক্রান্ত
বরগুনায় নারায়ণগঞ্জ ফেরত ব্যবসায়ীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার চার দিন পর স্ত্রীও আক্রান্ত হয়েছেন। জেলার আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ওই দম্পতি বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে আলাদাভাবে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে করোনা ভাইরাসে ব্যবসায়ীর স্ত্রী আক্রান্তের খবর নিশ্চিত হয় স্বাস্থ্য বিভাগ।। ব্যবসায়ী স্বামীর করোনা শনাক্ত হয় গত শনিবার। এরপর থেকে ওই বাড়ি লকডাউন করা আছে।
জানা গেছে, উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ওই ব্যবসায়ী ১০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ থেকে কাপড়ের ব্যবসা করেন। নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা তিনি ও তার পরিবারের লোকজন গত ১২ এপ্রিল আমতলী গ্রামের বাড়ি আসেন। করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ওই ব্যবসায়ী বাড়িতেই ছিলেন। তার শরীরের অবস্থা বেগতিক দেখে পরিবারের লোকজন গত ১৫ এপ্রিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে আসে। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইসিডিআর) পাঠিয়ে দেয়।
গত ১৮ এপ্রিল রাতে তার নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এতে তাঁর করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। এরপর গত রোববার ওই ব্যবসায়ীর পরিবারের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার স্ত্রীও করোনাভাইরাস আক্রান্ত বলে প্রতিবেদন আসে।
এ নিয়ে আমতলীতে পাঁচজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ৯ এপ্রিল আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম দেলওয়ার হোসেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, ওই ব্যবসায়ী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরে তার পরিবারের ৫ সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর স্ত্রী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তাদের বাড়িতে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আমতলী থানার ওসি শাহ আলম হাওলাদার বলেন, ওই রোগীদের হোম আইসোলেশন নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশের নজরদারি রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, ওই রোগীদের বাড়ি আগেই লকডাউন করা আছে। বাড়িতে রেখেই তাদের চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব সময় তাঁদের খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।