সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, বৃষ্টি ও ঢলের পানি বাড়ছে
সুনামগঞ্জে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ও গতকাল বুধবার রাতে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে উজান থেকে ব্যাপক পরিমাণে পাহাড়ি ঢল নামছে। এতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ।
পানি বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে। জেলার ২টি উপজেলায় ১০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে দুই শ’র বেশি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।
বন্যার পানিতে জেলার প্রায় তিন শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ আছে। বন্যার কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসছে না। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার্ত ব্যক্তিদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলার ছাতক উপজেলার সদরে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫৩ সেন্টিমিটার ওপরে আছে। সুনামগঞ্জে গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময় সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হয়েছে ২১৯ মিলিমিটার। যে কারণে ব্যাপক পরিমাণে পাহাড়ি ঢল নামছে সুনামগঞ্জে। এতে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে।
সুনামগঞ্জে ১৫ দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। নামছে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল। এতে জেলার পাঁচটি উপজেলা প্রথমে বন্যাকবলিত হয়। এখন অন্যান্য উপজেলাতেও পানি বাড়ছে। বন্যাকবলিত উপজেলার মধ্যে জেলার ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা আক্রান্ত বেশি। এ দুই উপজেলায় হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
ছাতক শহর থেকে গোবিন্দগঞ্জ হয়ে সিলেটে যাতায়াত করে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার মানুষ। কিন্তু বন্যার পানিতে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের হাসনাবাদসহ কয়েকটি স্থান প্লাবিত হওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। একইভাবে জেলার তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের শক্তিয়ারখলা, আনোয়ারপুর, বালিজুরীসহ আরও কয়েকটি স্থান প্লাবিত হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ আছে। মানুষ জরুরি প্রয়োজনে নৌকায় প্লাবিত এলাকা পার হয়ে পরে গাড়িতে চলাচল করছে।
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রহমান জানান, পুরো উপজেলাই বন্যাকবলিত। পানিবন্দী মানুষকে নানাভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ইসলামপুর ও নোয়ারাই ইউনিয়নের অবস্থা বেশি খারাপ। ছাতক পৌর শহরের পুরোটাই প্লাবিত।
ছাতকের নোয়ারাই গ্রামের বাসিন্দা আলী আকবর (৪৫) প্রথম আলোকে বলেন, চার দিন ধরে পানিবন্দী হয়ে আছেন তাঁরা। বৃষ্টি ও বজ্রপাত হচ্ছে। ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। ঘরে পানিও নেই। পরিবার নিয়ে কষ্টে আছেন তিনি।
ছাতক পৌর শহরের বাঘবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বিজয় রায় জানান, ছাতক শহরের সবখানেই পানি। নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে। চরম দুর্ভোগে আছে মানুষ।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাংশু কুমার সিংহ জানিয়েছেন, তাঁর উপজেলায় সদর ও সুরমা ইউনিয়ন বেশি বন্যাকবলিত। অনেক বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যাকবলিত ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য ১৫ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় এক হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আজ জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দোয়ারাবাজার ও ছাতকে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, জেলার ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা বেশি আক্রান্ত। যেভাবে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, পাহাড়ি ঢল নামছে তাতে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা আছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি আছে। সে অনুযায়ী কাজ করছেন তাঁরা।