ব্যাংকের টাকার আবগারি শুল্কমুক্ত সীমা বাড়ছে

জাতীয় সংসদ ভবনফাইল ছবি

ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সঞ্চয়কে উৎসাহিত করতে আগামী বাজেটে ব্যাংকে জমা অর্থের আবগারি শুল্কমুক্ত সীমা বাড়তে পারে। এই সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকায় উন্নীত হতে পারে। বর্তমানে কোনো গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে বছরে ৩ লাখ টাকার পর্যন্ত জমার বিপরীতে কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হয় না। আর ৩ লাখ ১ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা হলে ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়। আগামী বাজেটে ব্যাংকে জমা অর্থের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্কমুক্ত রাখা হতে পারে।

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটেও মেট্রোরেলের টিকিটের ওপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা অব্যাহত থাকতে পারে। টিকিটের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট ধার্য করা হলে সরকারের প্রায় ৫০ কোটি টাকা আয় হতো। কিন্তু যাত্রীদের সুবিধা ও ভাড়া যাতে না বাড়ে, সে জন্য আপাতত টিকিটের ওপর আগামী অর্থবছরও ভ্যাট না বসানোর কথা ভাবছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকার মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে মেট্রোরেলের প্রভাবের বিষয়টি মাথায় রেখে এ সুবিধা বহাল রাখা হচ্ছে।

বর্তমান ভ্যাট আইন অনুযায়ী, যেকোনো শীততাপনিয়ন্ত্রিত রেলের টিকিটে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের বিধান আছে। মেট্রোরেল পুরোপুরি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এবং গণপরিবহন। আইন অনুযায়ী, ভ্যাট প্রযোজ্য হলেও মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) অনুরোধে মেট্রোরেলের টিকিটে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দিয়ে আসছে সরকার। ডিএমটিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ প্রতিদিন এই নগর পরিবহনব্যবস্থা ব্যবহার করছেন।

যেসব খাতে ছাড় থাকছে

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেট্রোরেলের টিকিট ছাড়া আরও কয়েকটি খাতে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা থাকতে পারে আগামী বাজেটে। এর মধ্যে হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বাজেটে হার্টের রিং সরবরাহের ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার হতে পারে। এ ছাড়া কিডনি ডায়ালাইসিস টিউবসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানির ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ অগ্রিম কর তুলে নেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনা রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ কমাতে নানা পদক্ষেপ থাকবে বাজেটে। এ জন্য ওষুধের সুনির্দিষ্ট কিছু কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক কমানো হতে পারে। এ ছাড়া ওষুধ ও স্বাস্থ্য খাতের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক প্রণোদনাও থাকতে পারে। সেই সঙ্গে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে করছাড় দেওয়া হতে পারে।

এ ছাড়া সাধারণ মানুষের সঞ্চয় উৎসাহিত করতে ক্ষুদ্র আমানতকারীদেরও জন্য স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা থাকতে পারে বাজেটে। সে জন্য ব্যাংক হিসাবে বছরে জমা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্কমুক্ত করা হতে পারে। ৫ লাখ ১ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থিতি থাকলে তার ওপর ৫০০ টাকা শুল্ক দিতে হবে।

সিগারেটের দাম বাড়ছে

করের বোঝা আর না বাড়লেও সব পর্যায়ের সিগারেটের দাম বাড়তে পারে। বাজেট সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, প্রিমিয়াম, উচ্চ, মাঝারি ও নিম্ন—এই চার স্তরেই সিগারেটের দাম বাড়তে পারে। সরকার এই মূল্যস্তরগুলো নির্ধারণ করে দেয়। সেই দামের ওপর ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও স্বাস্থ্য সারচার্জসহ মিলিয়ে প্রায় ৮৩ শতাংশ কর আদায় করে। এবার কর না বাড়িয়ে সিগারেটের মূল্যস্তর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। তাতে সিগারেটের কর না বাড়লেও এনবিআরের এই খাত থেকে কর আদায় বাড়বে।

রাজস্ব কর্মকর্তারা জানান, আগামী বাজেটে বিভিন্ন খাতে ভ্যাট চালুর পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে নতুন নতুন খাতে ভ্যাট ও করারোপের বিষয়ে সবুজ সংকেত পাওয়া যায়নি।