বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আগ্রাসনে দেশের প্রান্তিক রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা অস্তিত্বের সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আগ্রাসন থেকে ছোটদের বাঁচাতে নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা শীর্ষক প্রথম আলো গোলটেবিলে এ কথা বলেন ইমরান হাসান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সভায় ইমরান হাসান বলেন, তিন থেকে চারটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছে বেকারি খাত চলে গেছে। তারা রেস্তোরাঁ ব্যবসাও শুরু করেছে। রপ্তানির নামে তাঁরা বন্ড সুবিধায় চিনি ও গুঁড়া দুধের মতো কাঁচামাল নিয়ে এসে অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। প্যাকেটজাত করে সুগন্ধি চাল বিক্রি করছে ১৪০ টাকায়, কিন্তু কৃষক টাকা পাচ্ছে না। কারণ, দাদন দিয়ে আগেই তাঁরা চাল কিনে নিচ্ছে। এভাবে ২০ হাজারের বেশি চাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে সমাজে হানাহানি শুরু হবে।
একই সঙ্গে ভ্যাট বৃদ্ধির চাপ ও প্রশাসনিক হয়রানির কারণে ব্যবসা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ইমরান হাসান। তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার রেস্তোরাঁ থাকলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসেবে ভ্যাট নিবন্ধিত রেস্তোরাঁর সংখ্যা মাত্র ১০ হাজার। আমরা চাই, সবাই ভ্যাটের আওতায় আসুক। আবার ব্যবসা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমলেও তিনগুণ ভ্যাট দেওয়ার চাপ দেওয়া হচ্ছে।
সভায় ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁর জন্য ব্যবসায়ীদের প্রায় ১৩ থেকে ১৪টি সরকারি দপ্তরের অনুমোদন ও কাগজপত্র সামলাতে হয়। ডিসি লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ নানা অনুমতির জটিলতায় তাঁরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
রেস্তোরাঁ খাতে প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক কাজ করলেও এ খাতের জন্য সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বা বিশেষ ঋণসুবিধা নেই। তৈরি পোশাক খাতের মতো অন্যান্য বড় শিল্প খাত নানা প্রণোদনা পেলেও এসএমইভিত্তিক রেস্তোরাঁ ব্যবসা উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ইমরান হাসানের। তাই এ খাতের জন্য আলাদা তহবিল গঠনের দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া সভা থেকে রেস্তোরাঁ ব্যবসার জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু, ভ্যাট ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট হার নির্ধারণ, সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা সুরক্ষায় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।