ইপিবির তথ্য
এপ্রিলে পণ্য রপ্তানি ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল, তবু ঘাটতি
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, নির্বাচনের পর পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ কিছুটা বেড়েছে। তাতে টানা আট মাস কমার পর ইতিবাচক ধারায় ফিরল দেশের পণ্য রপ্তানি।
টানা আট মাস পর দেশের পণ্য রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় ফিরল। গত এপ্রিলে প্রায় ৪ বিলিয়ন বা ৪০১ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত মাসে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। তবে এপ্রিলের উচ্চ প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিকে নেতিবাচক ধারা থেকে বের করতে পারেনি।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) মোট ৩ হাজার ৯৪০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ কম।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আজ রোববার পণ্য রপ্তানি আয়ের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, গত মাসে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, পাট ও পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য, চামড়াবিহীন জুতা রপ্তানি অনেক বেড়েছে। এতে সামগ্রিকভাবে পণ্য রপ্তানিতে বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে অর্থাৎ জুলাইয়ে ৪৭৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। তখন প্রবৃদ্ধি হয়েছিল প্রায় ২৫ শতাংশ। তারপর থেকে প্রতি মাসেই পণ্য রপ্তানি কমেছে। গত মার্চে ৩৪৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১৮ শতাংশ কম।
জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিদেশি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান ক্রয়াদেশ কম দিচ্ছিল। নির্বাচনের পর ক্রেতারা ক্রয়াদেশ দিতে শুরু করেছে।
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, গত বছরের এপ্রিলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে রপ্তানি কম হয়েছে। আর গত মার্চে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে উৎপাদন ও রপ্তানি কম হয়েছে। সে কারণে মার্চে রপ্তানি না হওয়া পণ্য গত মাসে জাহাজীকরণ হয়েছে। এতে করে এপ্রিলে পণ্য রপ্তানি বেড়েছে। যদিও গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানালেন তাঁরা।
ইপিবির তথ্যানুযায়ী, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক থেকে জুলাই-এপ্রিল সময়ে আয় হয়েছে ৩ হাজার ১৭২ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮২ শতাংশ কম। এপ্রিলে এ খাতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। মাসটিতে ৩১৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি।
জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিদেশি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান ক্রয়াদেশ কম দিচ্ছিল। নির্বাচনের পর ক্রেতারা ক্রয়াদেশ দিতে শুরু করেছে। যদিও ইরান যুদ্ধের কারণে সেটি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এপ্রিলে এ খাতে রপ্তানি হয়েছে ১১ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ৩৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ ছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যে গত মাসে বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রপ্তানি হয়েছে ৮ কোটি ৫৯ লাখ ডলারের পণ্য। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬৫ শতাংশ।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব হাছান প্রথম আলোকে বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে মার্চে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পণ্য যায়নি। গত মাসে সৌদি আরব ও দুবাইয়ে পণ্য যাওয়ার কারণে রপ্তানি বেড়েছে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বেড়েছে।
পাট ও পাটজাত পণ্যেও গত মাসে বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এপ্রিলে আট কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৪৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে রপ্তানি হয়েছে ৭০ কোটি ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আড়াই শতাংশ বেশি।
এ ছাড়া গত মাসে ৯ কোটি ৩৪ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৮ শতাংশ বেশি। সামগ্রিকভাবে চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৭৭ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ।
হোম টেক্সটাইলশিল্প–মালিকদের সংগঠন বিটিটিএমএমইএর সভাপতি এম শাহদাৎ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় ছাড়া অন্যান্য পণ্যের চাহিদা কমেছে। ফলে অধিকাংশ কারখানায় ক্রয়াদেশ কম। তাতে সামনের মাসগুলোতে রপ্তানি পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, সেটি এখনই বোঝা যাচ্ছে না।