বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে করছাড় চান ব্যবসায়ীরা

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রাক্–বাজেট আলোচনায় বক্তব্য দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। গতকাল বিকেলে নগরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চট্টগ্রাম চেম্বারের সম্মেলন কক্ষেছবি: প্রথম আলো

জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমাতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ও বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানি বাড়াতে বিশেষ করছাড় ও প্রণোদনা চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো, বেসরকারি তেল শোধনাগার স্থাপন ও সরকারি মজুত বৃদ্ধি এবং ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমানোরও প্রস্তাব দেন তাঁরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম চেম্বারে আয়োজিত প্রাক্‌–বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের কাছে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রশাসক মো. মোতাহের হোসেনের সভাপতিত্বে নগরীর আগ্রাবাদে চেম্বার ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। এতে চেম্বারের পক্ষ থেকে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কবিষয়ক বেশ কিছু লিখিত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রাক্‌–বাজেট এই আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, প্যাসিফিক জিনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, ইউনিভার্সেল অয়েল রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী, জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুলসহ বেশকিছু ব্যবসায়ী তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব আদায় পরিমাণ সন্তোষজনক নয়। স্থানীয় পর্যায়ে কর কমানোর দাবির কারণে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উদ্যোগ কঠিন হয়ে যায়। আবার ঋণ, সুদ ও উন্নয়ন ব্যয়ের চাপও বেড়েছে। কর কাঠামোর বৈষম্য দূর করতে নীতিগত পরিবর্তন দরকার। তাই রাজস্ব বাড়ানোর জন্য নতুন খাত খুঁজে ন্যায়সংগতভাবে কর আরোপ করা হবে। কর ফাঁকি রোধ, সারচার্জের নিয়ম পরিবর্তন, ন্যূনতম কর–সুবিধা, ভ্যাট ও কর ফেরতের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, অডিট–কাস্টমস আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ চলছে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে চেম্বারের সাবেক সভাপতি ফরিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, গত দুই-তিন বছরে ব্যবসা বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। রপ্তানিতেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসা সক্রিয় না থাকলে কর আদায়ের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়। চাপ প্রয়োগ করে কর আদায় করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে তা কার্যকর হবে না।

ব্যবসায়ীদের নানা সমস্যা তুলে ধরে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দরের সেবামাশুল বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বন্দর ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের ব্যয়ও অনেক বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় কাস্টমস ও বন্দরের সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে খরচ কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।

জ্বালানিসংকট প্রসঙ্গে চেম্বারের প্রশাসক মো. মোতাহের হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের উৎপাদন বাড়াতে হলে বেসরকারি শোধনাগার স্থাপন ও সরকারি শোধনাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো জরুরি। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি উৎসাহিত করতে শুল্ক ও করছাড় দেওয়া যেতে পারে।

ব্যবসা ও বিনিয়োগের স্বার্থে স্বল্পমেয়াদি নীতি সিদ্ধান্তের বদলে দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণের পরামর্শ দেন চেম্বারের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক। তিনি বলেন, ব্যবসার পরিবেশ এমন হতে হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম বিনিয়োগে আগ্রহী হয়। চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় নীতি নির্ধারণে এই অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ডিজেলের সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি প্রযুক্তি এই সংকটের কার্যকর বিকল্প হতে পারে। তাই শিল্প পর্যায়ের ব্যাটারির ওপর শুল্কছাড় দেওয়া হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে।

ইউনিভার্সাল অয়েল রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বেসরকারি খাতের ১২টি রিফাইনারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়েছে।

জিপিএইচ ইস্পাতের আলমাস শিমুল বলেন, দেশে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও আর্গনের উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও আমদানির কারণে স্থানীয় শিল্প প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।

প্রাক্‌–বাজেট আলোচনায় এনবিআর সদস্য মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর, মো. আজিজুর রহমান, পান রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. একরামুল করিম চৌধুরী, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনর সভাপতি আবদুস সালাম, কনফিডেন্স সিমেন্টের পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ, পিএইচপি গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ আলী হোসেন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।