এলপিজির ব্যবহারে যা জানা জরুরি
দেশে বর্তমানে আবাসিক ফ্ল্যাট, রেস্তোরাঁ ও হোটেলে প্রায় ৫ কোটি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহারের ঝামেলাকে সহজ করেছে এলপিজি সিলিন্ডার। রান্নার এই জ্বালানি সচেতনভাবে ব্যবহারে যেমন জীবনে এসেছে স্বস্তি, তেমনি অসচেতনতা ও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহারে তা ঘটাতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। গ্যাস মজুত, পরিবহন ও ব্যবহারে সামান্য ভুলে হতে পারে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি।
● ফায়ার সার্ভিস ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম না জানা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই বেশির ভাগ সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। সিলিন্ডার লিক হয়ে বদ্ধ ঘরে গ্যাস জমে যায়। এরপর বৈদ্যুতিক সুইচের স্ফুলিঙ্গ বা ম্যাচের কাঠি জ্বালালেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
● নিরাপদ এলপিজি ব্যবহারের প্রথম শর্ত হলো সিলিন্ডার কেনার সময় অনুমোদিত ডিলার থেকে সেফটি ক্যাপ ও থার্মোসিল দেখে নেওয়া।
● সিলিন্ডার সব সময় খাড়া অবস্থায়, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এমন সমতল স্থানে রাখতে হবে। কোনোভাবেই এটিকে শোবার ঘর, রান্নাঘরের বন্ধ কেবিনেট, আন্ডারগ্রাউন্ড বেসমেন্ট কিংবা সিঁড়িঘরের নিচে রাখা যাবে না; কারণ, এলপিজি গ্যাস বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ায় নিচু ও আবদ্ধ স্থানে জমে মারাত্মক বিস্ফোরক পকেট তৈরি করে।
● রান্নার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে জানালা-দরজা খুলে দেওয়া এবং রান্না শেষে রেগুলেটরের চাবি বন্ধ করার অভ্যাস করা জরুরি।
● রান্নাঘরে গ্যাসের গন্ধ পেলে কখনো দেশলাই জ্বালানো বা বৈদ্যুতিক সুইচ স্পর্শ করা যাবে না; কারণ, সুইচের সামান্য স্পার্ক থেকেও বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।
● লিক পরীক্ষার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো সাবান-পানির পরীক্ষা। পানিতে সাবান বা ডিশ ওয়াশার গুলিয়ে ফেনা তৈরি করে হোস পাইপ ও রেগুলেটরের সংযোগস্থলে লাগালে যদি বুদ্বুদ উঠতে দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে সেখানে গ্যাস লিক হচ্ছে।
●সিলিন্ডার দুর্ঘটনা রুখতে বিস্ফোরক পরিদপ্তর ও বিইআরসির সমন্বিত তদারকি আরও জোরদার করা অত্যন্ত প্রয়োজন । অবৈধ উপায়ে এক সিলিন্ডার থেকে অন্য সিলিন্ডারে গ্যাস স্থানান্তর (ক্রস-ফিলিং) বন্ধ করা এবং বাজারজাতকৃত প্রতিটি সিলিন্ডারের সংবিধিবদ্ধ পুনঃপরীক্ষার মেয়াদ বা টেস্ট ডিউ ডেট নিয়মিত যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা উচিত। একটু সতর্কতা ও সঠিক নিয়ম অনুসরণই পারে এলপিজি সিলিন্ডারজনিত প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি রোধ করতে।