ব্র্যাকের খাদ্য সহায়তা তহবিলে গ্রামীণফোনের ১৫ কোটি টাকা

খাবার কেনার জন্য জরুরি সহায়তা হিসেবে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন এক লাখ পরিবারকে এককালীন দেড় হাজার টাকা করে দেবে। এ জন্য ব্র্যাকের জরুরি খাদ্য সহায়তা তহবিলে ১৫ কোটি টাকা দেবে গ্রামীণফোন। ব্র্যাক টাকা নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে।
গ্রামীণফোন ও ব্র্যাকের এই যৌথ কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে 'ডাকছে আমার দেশ'। আজ শুক্রবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মলনের মাধ্যমে উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, দেড় হাজার টাকা দিয়ে চার সদস্যের একটি পরিবার অন্তত দুই সপ্তাহের জরুরি খাবার কিনতে পারবে ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, ব্র্যাকের কমিউনিকেশন অ্যান্ড আউটরিচ ডিরেক্টর মৌটুসী কবির এবং গ্রামীণফোনের সাসটেইনিবিলিটি প্রজেক্ট লিড এম. হাফিজুর রহমান খান। অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস খায়রুল বাশার।
গ্রামীণফোন এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও চলাচলে সীমাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সমাজের দিনমজুর এবং অতি দরিদ্ররা। ইতিমধ্যেই অনেকের জীবিকা নির্বাহের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে গ্রামীণফোন ও ব্র্যাক।
বিজ্ঞপ্তিতে ব্র্যাকের একটি জরিপের তথ্যও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলায় নিম্নআয়ের ২ হাজার ৬৭৫ জন মানুষ নিয়ে পরিচালিত জরিপে উঠে আসে, নিম্নআয়ের ১৪ শতাংশ পরিবারের বাসায় খাবার নেই। সামাজিক দূরত্ব বজায়ে সাধারণ ছুটি ও লকডাউনের কারণে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা কাজ হারিয়েছেন কিংবা তাদের কাজের সুযোগ কমেছে।
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান বলেন, ' এটি একটা বৈশ্বিক সঙ্কট। এখনই সময় সরকারি-বেসরকারি খাতকে এক সঙ্গে সামনে এগিয়ে এসে কোভিড-১৯ এর দুর্যোগ মোকাবিলা করা। যৌথ প্রচেষ্টায় একসাথে শক্তিশালী হওয়ার মাধ্যমে সমাজে ইচিবাচক প্রভাব ফেলতে আমরা শুরু থেকেই বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।'
ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, 'এটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্য নিয়ে বৈশ্বিক মহামারিই নয়, এটা মানবিক সঙ্কট। এ মুহূর্তে জাতির আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এক লাখের বেশি মাঠকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে ব্র্যাক মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধি, জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি, পিপিই সরবরাহ এবং মানুষের প্রয়োজনে জরুরি আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে আমরা সরকারকে সহায়তা করে যাচ্ছি।'
আসিফ সালেহ আরও বলেন, 'আমরা ইতিমধ্যেই ২ লাখ পরিবারকে ৩০ কোটি টাকা সহায়তার কথা বলেছি। গ্রামীণফোনের মহৎ উদ্যোগ ও সহায়তা আমাদের বিস্তৃত পরিসরে কাজ করতে সাহায্য করবে। বেশি ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকা—বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী কিংবা স্তন্যদানকারী মা, বিশেষভাবে সক্ষম মানুষ, নারী উপার্জনকারীর ওপর নির্ভরশীল পরিবার, অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং অন্য কোনো উৎস থেকে সহায়তা বঞ্চিত ব্যক্তি ও পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্র্যাক নিজেদের কাজ অব্যাহত রাখবে।'