গানটি করার সময় বাবার মুখ ভেসে উঠেছে
বাবাকে নিয়ে খুব একটা গান করেননি সংগীতশিল্পী পুলক অধিকারী। সেই আফসোস এবার ঘুচল। বাবা দিবসে নিজের গাওয়া একটি গানের স্টুডিও ভার্সন প্রকাশ করলেন এই গায়ক। গানটি গাওয়ার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে এই গায়ক জানালেন, বাবা হওয়ার পর এখন প্রতিমুহূর্তে বাবার গুরুত্ব উপলব্ধি করেন। গাওয়ার সময় বাবার স্মৃতিগুলোই ঘুরেফিরে আসছিল।
পুলক জানান, মাসখানেক আগে গীতিকার শাহাদত রাসেল গানটি তাঁকে পাঠান। গানের কথা তাঁকে এতই আকর্ষণ করে যে দ্রুতই সুর করেন। তিনি বলেন, ‘১৫ মিনিটেই সুর তুলে ফেলি। গীতিকারকে পাঠাই। তিনিও পছন্দ করেন। এরপর গীতিকারের অনুমতি নিয়ে গানটি করি।’ গানের কথায় উঠে এসেছে বাবার প্রতি ভালোবাসা, টান, বাবার কাছ থেকে দূরে থাকার কষ্ট। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘লেখাপড়া বা চাকরির সুবাদে আমরা মা–বাবার কাছ থেকে দূরে চলে যাই। একটা সময় মা–বাবার কাছে নিয়মিত থাকা হয় না। কিন্তু বাবার প্রতি অব্যক্ত একটা ভালোবাসা সব সময়ই থাকে। যত যা–ই হোক, চেষ্টা করি বছরের বিশেষ দিনগুলোতে তাঁদের সঙ্গে কাটানোর।’
বাবা দিবসেই গানটি কেন প্রকাশ করলেন, এমন প্রশ্নে পুলক বলেন, ‘মা–বাবার কাছে নিয়মিত না থাকার বেদনা থেকেই গানটি করা। কথার মধ্যে সেই আর্তনাদ আছে। আমার বাবা বেঁচে আছেন। কিন্তু তাঁর থেকে অনেক দূরে থাকি আমি। গানটি করার সময় বাবার মুখ ভেসে উঠেছে। অনেক সময় আমরা বাবার চেয়ে মাকে হয়তো একটু বেশি গুরুত্ব দিই। কিন্তু নিজে বাবা হওয়ার পর এখন বুঝি বাবার গুরুত্ব।’
বেশ পছন্দ হওয়ায় গানটি নিয়ে একটি মিউজিক ভিডিও করার ইচ্ছা ছিল পুলকের। বাজেটের কারণে পারেননি। তাই স্টুডিও ভার্সন করে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করেছেন। গায়ক বলেন, ‘ইচ্ছা আছে, ভবিষ্যতে গানটি নতুন আয়োজনে মিউজিক ভিডিও করব।’
‘বাবা’ শিরোনামের গানটি সংগীতায়োজন করেছেন আমজাদ হোসেন। এদিকে পুলক অধিকারী নিজের চ্যানেলের জন্য ১০০ গানের প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন। এটি সেই প্রজেক্টের দ্বিতীয় গান।