প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয়ের খুব ইচ্ছা

জাকিয়া বারী মম
ঈদ পার হলেও এখনো নতুন শুটিং শুরু হয়নি। কবে শুরু হবে, তা–ও জানেন না। গতকাল রোববার দুপুরে উত্তরার বাসা থেকে তাঁর বর্তমান হালচাল নিয়ে কথা বললেন জাকিয়া বারী মম

প্রশ্ন :

কী করছেন? ঈদ কেমন কাটালেন?

এবারের ঈদ দারুণ কেটেছে। বেশ কয়েকটি বই পড়েছি। লেখার মাধ্যমে নতুন লেখকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে।

প্রশ্ন :

কোন কোন লেখকের সঙ্গে ঈদ কাটল?

অরুন্ধতী রায়ের ‘আজাদি’, শাহাদুজ্জামানের ‘ক্রাচের কর্নেল’, গল্প, অগল্প, না–গল্প সংগ্রহ’, ‘মামলার সাক্ষী ময়না পাখি’, ‘একজন কমলালেবু যেমন পড়েছি’, তেমনি পড়েছি হুমায়ুন আজাদের ‘সবকিছু ভেঙে পড়ে’, ‘ফালি ফালি ক’রে কাটা চাঁদ’, সুহান রিজওয়ানের ‘সাক্ষী ছিলো শিরস্ত্রাণ’ এবং জাপানি লেখক হারুকি মুরাকামির ‘হিয়ার দ্য উইন্ড সিং’ ও ‘নরওয়েজিয়ান উড’। বন্ধুদের কাছ থেকে জাপানের এই লেখকের খোঁজ আমি এবারের কঠোর বিধিনিষেধে পেয়েছি। আমি তো তাঁর লেখার প্রেমে পড়ে গেছি। জীবনে অনেক ঘটনা, অনেক কিছু—তারপরও জীবন চলে, লেখকের লেখায় নতুন করে আবার জানতে পেরেছি।

প্রশ্ন :

জাপানি এই লেখকের লেখার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন সহজ ছিল কি এ কারণেই?

(হাসি), এটা আমার একার জন্য নয়। আমার ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে মিলে গেছে তেমনও নয়। আমাদের সবারই জীবন তো আসলে চলে যায়। জীবনের গতিটাই আসলে স্বাচ্ছন্দ্য আরকি। ওটা সবার জীবনের জন্যই সত্যি। এটা ঠিক, জীবনের সঙ্গে একধরনের মিল খুঁজে পেলে শুরুতেই একটা ইনভলভমেন্ট তৈরি হয়। সত্যি বলতে, বই পড়ে আমার ঈদ উদ্‌যাপন দারুণ হয়েছে।

জাকিয়া বারী মম

প্রশ্ন :

কোনো ওয়েব সিরিজ কিংবা ছবি দেখা হয়েছে?

আমি না এবার পড়ার মধ্যে বেশি ডুবে ছিলাম। এত ভালো লাগছিল, সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ দেখা খুব একটা হয়নি। গতকাল জনপ্রিয় একটা সিনেমা দেখেছি, ‘মিমি’। সবাই দেখছে, তাই আমিও দেখলাম। আমি এমনিতে ‘ডেজিগনেটেড সারভাইবার’, ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’ এবং ‘দ্য গুড ডক্টর’ দেখলাম। ঈদের আগে ‘মহানগর’, ‘লেডিজ অ্যান্ড জেন্টলম্যান’ দেখেছি। ‘ঊনলৌকিক’ দেখব এখন।

প্রশ্ন :

‘ঊনলৌকিক’ কেন দেখবেন?

আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রথমত পোস্টার দেখে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, এরপর নির্মাতা ও প্ল্যাটফর্মের প্রতি দর্শক হিসেবে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রশ্ন :

‘ঊনলৌকিক’–এর পরিচালক রবিউল আলম রবির সঙ্গে কোনো কাজ হয়েছে কি?

রবির সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব এক যুগের বেশি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। শঙ্খ দাশগুপ্তর সঙ্গেও কাজ হয়নি—অথচ ওরা আমার প্রাণের বন্ধু। ওদের সঙ্গে প্রচুর আড্ডা হয়েছে। শাওকি তো আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই। ওরা অনেক পেশাদার। কাজটাকে ভীষণ ভালোবেসে করে। ওরা খুব ভালো ভাবতেও পারছে, এটাই ভালো লাগছে।

জাকিয়া বারী মম
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন :

‘মহানগর’–এ নিজেকে দেখে কেমন লেগেছে?

আমার মনে হয়েছে, পরিচালক (আশফাক) নিপুণ ভাইয়ের ইনস্ট্রাকশন এবং আমার চেষ্টা হয়তো ছিল। সে দুই জায়গা মিলিয়ে নিজেকে একটা চরিত্র মনে হয়েছে। একই ধরনের চরিত্রে অনেক দিন ধরে অনেক কাজ করেছি। একটা চরিত্র থেকে আরেকটায় বেরিয়ে আসার চেষ্টাকে দর্শক অ্যাপ্রিশিয়েট করছে।

প্রশ্ন :

ঈদে আপনার অভিনীত ‘মায়ের ডাক’ নামের একটি নাটক চোখে পড়ল।

আরও দুটি পারিবারিক গল্পের নাটকে অভিনয় করেছি। একটি বদলে যাওয়া মানুষ, অন্যটির নাম এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না। দর্শক বদলে যাওয়া মানুষ ও মায়ের ডাক খুব পছন্দ করেছেন। ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে এ দুই নাটকের রেসপন্স পাচ্ছি। ফ্যামিলি ড্রামা, সেই জায়গা থেকে দর্শকের সংযোগ তৈরি হচ্ছে।

প্রশ্ন :

পারিবারিক গল্পের নাটক কি বাড়ছে?

আমার তো মনে হয়, পরিবারকেন্দ্রিক গল্পের নাটক যেমন হচ্ছে, তেমনি চরিত্রনির্ভর ও বিভিন্ন পেশাকেন্দ্রিক গল্প নিয়েও নাটক হচ্ছে। প্রেমের গল্পের বাইরেও যে এসব হচ্ছে, এটা আশার কথা।

প্রশ্ন :

এমন চরিত্রে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখেন?

যে চরিত্র গল্প বলে, তা হতে বেশি ভালো লাগে। এটা সাহিত্য থেকে হতে পারে, মৌলিক কোনো চরিত্র হতে পারে। সাহিত্যের চরিত্র যখন পড়ি, ভালো লাগে। দেশের কোনো বিশেষ ব্যক্তিত্বের চরিত্রে যদি অভিনয় করতে পারি, সেটাও ভালো লাগবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয়ের খুব ইচ্ছা। শুধু একজন দায়িত্বশীল প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিশ্বে তাঁর অবস্থান আমার কাছে আলাদা ভ্যালু অ্যাড করে। এর বাইরে জাহানারা ইমাম, কর্নেল তাহেরের স্ত্রী লুৎফা তাহের চরিত্রটিও আমার ভীষণ পছন্দের।

প্রশ্ন :

আপনার ছেলের খবর বলুন?

আমার ছেলে উদ্ভাস তো বড় হয়ে যাচ্ছে। ক্লাস ফোরে এখন। ও তার বাবার সঙ্গে ধানমন্ডিতে থাকে। আমাদের মা ছেলের প্রতিদিন ভিডিও কলে কথা হয়।