আমার মতো অনেকের জন্য গতকালকের দিনটা ছিল স্বপ্নভঙ্গের দিন। ফাটাকেষ্ট মিঠুন চক্রবর্তী দাদা বলেছিলেন, ‘এক ছোবলেই ছবি!’ আমরা এক খবরেই শেষ! অবস্থা এখন কেরোসিন। আমাদের কথা ভেবেই হয়তো ব্যান্ড শিল্পী হাসান গেয়েছিলেন, ‘এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়’। ভালোবাসার জন্য এত কষ্ট মেনে নেওয়া যায় না। কতজনের হয়ে গেল, অথচ আমার কিছু হলো না। কপাল খারাপ হলে যা হয়।
করোনার শুরু থেকে দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়ছে না। কোনো দিকে কোনো আশা জাগানোর খবর নেই। চারদিকে যেন হতাশা কিলবিল করছে। অক্টোপাসের মতো যেন হতাশার হয়েছে আট পা।
কত আশায় বসে ছিলাম কালকের দিনটার জন্য। কত নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি এই দিনটার কথা ভেবে। কত প্রস্তুতি ছিল এই দিনটাকে ঘিরে। বন্ধুরা মিলে কত পরিকল্পনা করেছিলাম। অথচ আশার গুড়ে বালি। প্রিলির রেজাল্ট দিয়ে দিল। সব আশা শেষ! আমার বলার কিছু ছিল না! আমাকে দিয়ে কিছু হলো না!
ঈদের আগে থেকেই রেজাল্ট নিয়ে উৎকণ্ঠায় ছিলাম। একবার শুনি, ঈদের পরে; আরেকবার শুনি, লকডাউন শেষ হওয়ার সপ্তাহখানেক পরে। লকডাউনের পর রেজাল্ট দেবে শুনে খুব খুশি হয়েছিলাম। লকডাউনের পরে দিলেই ভালো হতো। অথচ রেজাল্টটা দিল কঠোর লকডাউনের মধ্যেই। আমার মিষ্টির ব্যবসার বারোটা বাজিয়ে দিল! আমার কত আশা ছিল। ফুরিয়ে গেল সব।
করোনা আইসা এমনিতেই আমাদের আশা ফুরাইছে। ব্যবসার অবস্থা ভালো না। এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট নাই। ওই সিজনে মণকে মণ মিষ্টি বিক্রি করতাম। আহারে সেই সব দিন! ভার্সিটিগুলার ভর্তি পরীক্ষা নাই যে চান্স পেয়ে মিষ্টি বিতরণ করবে। বড় কোনো চাকরির পরীক্ষাও হয় নাই।
ভরসা ছিল বিসিএস নিয়ে। ভেবেছিলাম, করোনা মহামারিতে বিসিএস প্রিলিটাই বিরাট কিছু। এতে টিকে গেলে মানুষ খুশিতে আত্মহারা হয়ে মিষ্টি বিতরণ করবে। আমার ধারণা ঠিক ছিল। প্রিলিতে চান্স পেয়ে ফেসবুকে দেখি একেকজন সেই খুশি। কিন্তু এই মরণের কঠোর লকডাউনের জন্য মিষ্টি বিতরণ হলো না। এত মানুষ বিসিএসে টিকল, অথচ মিষ্টির দোকানটাই খুলতে পারলাম না। এই দুঃখ আমি কই রাখি! আমাদের কথা ভেবেই হয়তো গরিবের মহানায়ক কাজী মারুফ বলেছেন, ‘সবার অঙ্ক মেলে, আমার অঙ্ক মেলে না।’