মাসিকের সময় প্রস্রাব আটকে রাখলে কি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে

পিরিয়ডের সময় প্রস্রাব চেপে রাখলে তলপেটে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি ব্যথা অনুভূত হয়ছবি: জনস হপকিন্স মেডিসিন

মাসিকের সময়টা মাসের বাকি দিনগুলোর থেকে একটু আলাদা। নানান রকম শারীরিক অস্বস্তি হতে পারে এই সময়। প্রস্রাবের চাপও হতে পারে বারবার। দেশে অনেক নারীই এ সময় ঘরের বাইরে ওয়াশরুম ব্যবহার নিয়ে অস্বস্তিতে থাকেন। মাসিকের সময় প্রস্রাব চেপে রাখলে কি সংক্রমণ বা অন্য কোনো সমস্যার ঝুঁকি বেশি? জেনে নিন, বিজ্ঞান কী বলছে।

সংক্রমণের ঝুঁকি

এ সময় একজন নারীর শরীরে হরমোনের মাত্রার কিছু তারতম্য ঘটে। অন্য সময় ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে নারীর যোনিপথে পিএইচ কম থাকে। তাই সেখানে ক্ষতিকর জীবাণু জন্মানোর ঝুঁকি কম থাকে। তাই সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকে।

পিরিয়ডের সময় ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। তাই যোনিপথে পিএইচ বাড়ে। তাই সেখানে ক্ষতিকর জীবাণু জন্মানোর সুযোগ থাকে। তা ছাড়া পিরিয়ডের সময় যে রক্তক্ষরণ হয়, সেই রক্ত থেকে জীবাণুরা সহজে প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পেয়ে যায়। তাই পিরিয়ডের সময় যোনিপথ এবং আশপাশে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

একজন নারীর সুস্থতার জন্য নিয়মিত মাসিক হওয়া খুবই জরুরি
ছবি: পেক্সেলস

দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখার অর্থ কিন্তু ওই নারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন পরিবর্তনের সুযোগও পাচ্ছেন না। তার মানে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা। ফলে বাড়ছে যোনিপথ এবং জরায়ুর নালিতে সংক্রমণের ঝুঁকি। আর এ সময় প্রস্রাব চেপে রাখলে যোনিপথ থেকে সহজেই জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে মূত্রনালি, মূত্রথলি, এমনকি কিডনিতেও।

অন্যান্য ঝুঁকি

পিরিয়ডের সময় প্রস্রাব চেপে রাখলে তলপেটে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি ব্যথা অনুভূত হবে। আর মাসের অন্যান্য দিনের মতোই এ সময় প্রস্রাব চেপে রাখলে পরবর্তী সময়ে নানান সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। কারও কারও কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ে। কারও আবার প্রস্রাব করতে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমস্যা দেখা দেয়। বাধাগ্রস্ত হতে পারে কিডনির কার্যক্ষমতাও।

আরও পড়ুন

সতর্কতা

পিরিয়ডের সময় একটু বেশি পানির প্রয়োজন হয় শরীরে। এ সময় তাই পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবার খেতে হবে। প্রস্রাব চেপে রাখা যাবে না। যদি এমন কোথাও যেতে হয়, যেখানে প্রস্রাব করার সুযোগ একেবারেই পাবেন না বলে মনে করেন, সে ক্ষেত্রে বের হওয়ার আগে আগে প্রস্রাবের চাপ না থাকলেও প্রস্রাব করে প্যাড বদলে নিতে হবে।

এ বিষয়ে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষেত্র, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, রেস্তোরাঁ, দোকান, বিনোদনকেন্দ্র এবং অন্যান্য স্থানে নারীবান্ধব ওয়াশরুমের ব্যবস্থা রাখতে হবে। নিজ বাড়িতে গৃহসহায়তাকর্মীর জন্যও সুব্যবস্থা রাখুন।

সূত্র: হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং (হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল)

আরও পড়ুন