দিনের একেক সময়ে ওজন একেক রকম দেখায় কেন

কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তের ওজনই আপনার শরীরের চূড়ান্ত সত্য নয়।ছবি: পেক্সেলস

ওজন কমানোর সংগ্রামে যাঁরা নেমেছেন, তাঁদের কাছে ডিজিটাল ওয়েট মেশিনটি যেন এক মূর্তিমান আতঙ্ক, আবার কখনো পরম নির্ভরতার জায়গাও। কিন্তু খেয়াল করেছেন কি? সকালে ঘুম থেকে উঠে ওজন হয়তো এক রকম দেখা গেল, রাতে শোবার আগে মাপলে দেখা যায় এক থেকে দুই কেজি বেড়ে গেছে! এই পার্থক্য দেখে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন বা ভাবেন ডায়েটে ভুল হচ্ছে। আদতে দিনের বিভিন্ন সময়ে ওজনের এই হেরফের হওয়াটাই স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।

ওজন কেন আলাদা হয়?

দিনের বেলা আমাদের ওজন বাড়া-কমার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করে-
খাদ্য ও পানীয়: আমরা যা খাই বা পান করি, তার একটি নিজস্ব ওজন আছে। দিনে কয়েক গ্লাস পানি পান করলে বা ভারী খাবার খেলে সাময়িকভাবে শরীরের ওজন বেড়ে যায়। যতক্ষণ না শরীর সেই খাবার হজম করছে বা বর্জ্য ত্যাগ করছে, ততক্ষণ স্কেলে বাড়তি ওজন দেখাবে।

আরও পড়ুন

লবণ ও কার্বোহাইড্রেট: খাবারে লবণের (সোডিয়াম) পরিমাণ বেশি হলে শরীর পানি ধরে রাখে। একইভাবে এক গ্রাম কার্বোহাইড্রেট জমা রাখতে শরীর প্রায় তিন গ্রাম পানি ব্যবহার করে। ফলে বিরিয়ানি বা নোনা খাবার খাওয়ার পরদিন ওজন বেশি দেখাতে পারে।
ব্যায়াম ও ঘাম: কঠোর ব্যায়ামের পর শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়ে যায়। এতে সাময়িকভাবে ওজন কিছুটা কম দেখাতে পারে, যা মূলত ‘ওয়াটার ওয়েট’। পানি পানের পর এটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

কোন ওজনটি সঠিক?

আদতে কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তের ওজনই আপনার শরীরের চূড়ান্ত সত্য নয়। আমাদের শরীরের ওজন একটি ‘রেঞ্জ’ বা সীমার মধ্যে ওঠানামা করে। তবে শরীরের চর্বি বা পেশির প্রকৃত অবস্থা বুঝতে হলে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে।
ওজন মাপার সঠিক সময়
ওজন মাপার সবচেয়ে আদর্শ সময় হলো সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর, টয়লেট সেরে খালি পেটে। কেন এই সময়টি সেরা? কারণ, সারা রাত ঘুমানোর ফলে আপনার পাকস্থলি খালি থাকে এবং শরীর রি-হাইড্রেটেড হওয়ার সুযোগ পায় না। ফলে এই সময়ে মাপা ওজনেই আপনার শরীরের প্রকৃত ‘বেজলাইন’ ওজন দেখা যায়।

কিছু জরুরি পরামর্শ

১. প্রতিদিন ওজন না মেপে সপ্তাহে নির্দিষ্ট একটি দিনে (যেমন প্রতি শনিবার সকালে) ওজন মাপুন।
২. ওজন মাপার সময় পাতলা কাপড় পরুন এবং প্রতিবার একই ওয়েট মেশিন ব্যবহার করুন।
৩. সমতল মেঝের ওপর মেশিন রেখে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ওজন নিন। কার্পেটের ওপর মেশিন রাখলে অনেক সময় সঠিক রিডিং পাওয়া যায় না।
ওজনের সামান্য হেরফেরে বিচলিত না হয়ে নজর দিন নিজের ফিটনেস ও কর্মক্ষমতার ওপর। আয়নায় নিজেকে কেমন দেখাচ্ছে বা পুরোনো কাপড়গুলো ঠিকঠাক ফিট হচ্ছে কি না, সেটিই হোক আপনার অগ্রগতির আসল মাপকাঠি।
সোর্স: হেলথলাইন ইউকে
লেখক: ক্লিনিক্যাল স্টাফ, নিউরোলজি বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা।

আরও পড়ুন