ত্বকে ব্রণের সমস্যা কেন হয়, সমাধান কী

কিছু ব্রণ মাসিকের সময় অথবা মেনোপজের সময় দেখা যেতে পারেছবি: ফ্রিপিক

অ্যাকনে ভালগারিস বা ব্রণ ত্বকের তৈলগ্রন্থির রোগ। ত্বকের তৈলগ্রন্থি যখন অতিরিক্ত সেবাম (ত্বকের প্রাকৃতিক তেল) তৈরি করে, তখন তা হেয়ার ফলিকলের মুখ আটকে দেয়। এর ওপরে জড়ো হওয়া ময়লা ও ত্বকের মৃত কোষের ফলে ধীরে ধীরে ত্বকে প্রদাহ ও লালচে ভাব দেখা দেয়।

অ্যাকনের বিভিন্ন রূপ আছে যেমন হোয়াইটহেড, ব্ল্যাকহেড, পুঁজ জমা পাশ্চুল, ফোলা পিম্পল, ফাঁপা সিস্ট ও শক্ত নডিউল। সাধারণভাবে সব কটিকেই ব্রণ বলা হয়। এগুলো দেহের বিভিন্ন অংশে হতে পারে, যেমন মুখ, গলা, কাঁধ ও পিঠ। এসব ব্রণ ত্বকের মসৃণতা নষ্ট করে এবং প্রদাহ বা ক্ষতচিহ্নের সৃষ্টি করতে পারে।

অভ্যন্তরীণ কারণ

বংশগত: ব্রণ হওয়ার ঝুঁকির পেছনে বড় ভূমিকা আছে জেনেটিকসের। আপনার মা-বাবা কারও ব্রণ হয়ে থাকলে আপনারও হতে পারে।

হরমোনজনিত: পিসিওএস রোগের ফলে হওয়া হরমোনের তারতম্য তৈলগ্রন্থি থেকে বেশি সেবাম তৈরি করে, যার ফলে ব্রণ বেরোয়। কিছু ব্রণ মাসিকের সময়, গর্ভাবস্থায় ও মেনোপজের সময় দেখা যেতে পারে।

বাহ্যিক কারণ

বেশ কিছু পরিবেশ ও জীবনশৈলীসম্পর্কিত কারণে ত্বকের ক্ষতি হয়ে ব্রণের বাড়াবাড়ি দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে পড়ে—

স্ট্রেস: মানসিক বা শারীরিক চাপের কারণে তৈলগ্রন্থি তেল সৃষ্টি করা বাড়িয়ে দিতে পারে, যাতে অতিরিক্ত সেবাম বেরোয়।

ওষুধ: যেসব ওষুধে অ্যান্ড্রোজেন, স্টেরয়েড ইত্যাদি থাকে, সেসব গ্রহণে ব্রণ হতে পারে।

চিকিৎসা

হালকা থেকে গুরুতর ব্রণের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত চিকিৎসাগুলো করা যায়:

ওষুধভিত্তিক চিকিৎসা: ১. টপিক্যাল রেটিনয়েড মলম। ২. টপিক্যাল অ্যান্টিবায়োটিক মলম। ৩. মুখে খাওয়ার ওষুধ।

ব্রণ দূর করার প্রক্রিয়া: ১. ইন্ট্রালেশনাল ইনজেকশন। ২. হরমোনাল চিকিৎসা। ৩. কেমিক্যাল পিল। ৪. লেজার চিকিৎসা।

ডা. তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী, চর্ম, যৌন, অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ; চেম্বার: আলোক হেলথ কেয়ার, মিরপুর-পল্লবী শাখা, ঢাকা

আরও পড়ুন