সাক্ষাৎকার
পর্যটকসহ স্থানীয়দের আশ্রয়ে এগিয়ে এসেছে হাওরের হাউসবোটগুলো
আকস্মিক বন্যায় দিশেহারা সুনামগঞ্জ ও সিলেটের মানুষ। এই দুর্যোগের সময় সুনামগঞ্জের পর্যটকবাহী নৌকার মালিকেরা এগিয়ে এসেছেন। কেউ কাজ করছেন দুর্গত মানুষকে উদ্ধারে, কেউ আবার হাউসবোটে আশ্রয় দিয়েছেন বন্যার্তদের। তেমনই একজন উদ্যোক্তা ব ট্রাভেলার্সের প্রধান নির্বাহী সাদিফুজ্জামান দিগন্ত। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন সজীব মিয়া
প্রশ্ন :
নৌকার ইঞ্জিনের শব্দ শোনা যাচ্ছে, কোথাও যাচ্ছেন?
জি। আটকে পড়া কিছু মানুষকে নিয়ে আমরা কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার চামড়াঘাটে যাচ্ছি। বিকেল চারটা নাগাদ হয়তো পৌঁছাব। সেখান থেকে আবার ত্রাণ নিয়ে এই নৌকা আবার সুনামগঞ্জে ফিরবে।
প্রশ্ন :
নৌকায় আটকে পড়া যাঁরা আসছেন, কারা তাঁরা?
বেশির ভাগই পর্যটক। এ ছাড়া রাঙামাটির সাজেক থেকে বিভিন্ন হাউসবোটে কাজ করতে আসা নৌকার মিস্ত্রি আছেন ১০ জন। চাকরিসূত্রে সুনামগঞ্জে থাকেন—এমন কয়েকজন আছেন, আছে তাঁদের পরিবারও। সব মিলিয়ে নৌকায় আমরা ৪০ জন মানুষ আছি।
প্রশ্ন :
সুনামগঞ্জে কত জন পর্যটক আটকা পড়েছেন, সংখ্যাটা বলতে পারেন?
আমার কাছে আটকে পড়া মানুষের বেশ কিছু কল এসেছে। এ ছাড়া আশপাশে খোঁজ নিয়েও জানতে পেরেছি, এ সংখ্যা দুই শতাধিক হবে। তাঁরা বিভিন্ন হাউসবোট ও শহরের হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন।
প্রশ্ন :
আজ বন্যা পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?
বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। আটকে পড়া অনেকে নৌকা নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টাও করছেন।
প্রশ্ন :
আপনার হাউসবোটেও তো অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন?
আমাদের পাঁচটি হাউসবোট। এর মধ্যে বজরা, চণ্ডীমঙ্গল নামের দুটি বোটসহ তিনটি আছে সুনামগঞ্জের মল্লিকপুর ঘাটে। এখানে আটকে পড়া পর্যটক আর মাঝিদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যাঁদের অনেকে নিয়ে আজ ফিরছি। এ ছাড়া রাধানগর এলাকায় আটকে পড়ে আছে আমাদের আরও দুটি হাউসবোট। ওই নৌকা দুটিতে স্থানীয় মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
এ কাজ শুধু আমরা করিনি, প্রায় প্রতিটি হাউসবোটেই মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। বলা যায়, আটকে পড়া পর্যটকসহ স্থানীয় মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হয়েছে এই হাউসবোটগুলো।
প্রশ্ন :
নৌকাগুলোয় কতজন মানুষের আশ্রয় হয়েছে?
শুধু সুনামগঞ্জে যে নৌকাগুলো আছে, সেগুলোয় প্রায় ৫০০ মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়েছে। এ ছাড়া তাহিরপুর উপজেলায় নৌকা আছে। সেসব নৌকাতেও মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
প্রশ্ন :
হাউসবোটে আশ্রয় নেওয়া মানুষের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে কীভাবে?
১৭ জুন পর্যটকবাহী প্রায় সব কটি নৌকার বুকিং ছিল। সে লক্ষ্যে প্রস্তুতিও ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাজারসদাইও করা হয়েছিল। আপনি জানেন, এসব হাউসবোটে মানসম্পন্ন খাবার দেওয়া হয়। তাই বাজারের পরিমাণটা কম নয়। কিন্তু ১৬ জুন পানি বাড়ায় অধিকাংশ পর্যটককে আসতে মানা করা হয়। অনেক পর্যটক নিজে থেকেও ট্যুর বাতিল করেন। নৌকায় থাকা সেই বাজার দিয়ে কোনোভাবে চলছে। তিন বেলার মধ্যে হয়তো এক বেলা খাচ্ছেন অনেকে।
প্রশ্ন :
এভাবে তো বেশি দিন থাকা যাবে না
তা তো অবশ্যই। খাবার ফুরিয়ে আসছে। সবচেয়ে সংকট খাবার পানির। আমি অনেককে দেখেছি নদীর পানি পান করছেন। আমাদের বোটগুলোয় খাবার পানি সংরক্ষণ করা ছিল। বেশ কিছু মানুষকে সেখান থেকে সরবরাহ করেছি। এখন শুকনো খাবার আর পানীয়জল বেশি প্রয়োজন।
প্রশ্ন :
আপনি কি আজই সুনামগঞ্জে ফিরবেন?
আমি হয়তো আজই ফিরব না। ত্রাণ সংগ্রহ ও বিতরণে সমন্বয়ের কাজ করতে হবে। তবে কাল পরশু সুনামগঞ্জে ফিরব।
প্রশ্ন :
কেউ চাইলে আপনাদের মাধ্যমে বন্যার্তদের সহযোগিতা করতে পারবে?
নিশ্চয় করতে পারবে। আমার ব্যক্তিগত নম্বরে (০১৮৮৯৪৬৩৩৬৩, ০১৬৭৬২৯৬৫৩৪) আগ্রহী ব্যক্তিরা যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের মতো অনেকেই কাজ করছেন, তাঁদের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারেন। তবে অর্থের চেয়ে শুকনো খাবার ও নিরাপদ পানি আমাদের কাছে পৌঁছে দিলে সবচেয়ে ভালো হয়।