‘মুল্লুক চলো’ আন্দোলনের বেদনাবিধুর ইতিহাস

চা–শ্রমিকেরা যখন এখানে প্রথমে আসেন, তখন তাঁরা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তিন বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, সেই থেকে শুরু তাঁদের দাসত্বের জীবন।ফাইল ছবি: প্রথম আলো

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হলেও ভৌগোলিকভাবে বৈচিত্র্যময়। এ দেশে যেমন রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম বিস্তীর্ণ সমভূমির বদ্বীপ, তেমনি এর দক্ষিণ–পূর্ব ও উত্তর–পূর্বাঞ্চল হলো পাহাড়-টিলাবেষ্টিত ভূপ্রকৃতি; আর এই টিলাগুলোর বেশির ভাগই উত্তর–পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ সিলেটে, যা একসময় আসামের অংশ ছিল।

অনুচ্চ টিলা ও ঢালু হওয়ায় এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি ও আবহাওয়া চা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। পৃথিবীতে পানির পরেই চা সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়।

ধারণা করা হয়, চীনে প্রথম এটি জনপ্রিয়তা পায়। পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে চীন ছাড়া পৃথিবীতে কোথাও চায়ের প্রচলন ছিল না। চীনই তখন চায়ের একমাত্র জোগানদার ছিল। তাই ইউরোপে সব চা আসত চীন থেকে।

চীন-জাপান যুদ্ধের ফলে চীনের সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চায়ের অসম্ভব মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। ইউরোপের মানুষ তখন চা পানে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প পথের সন্ধান শুরু হয়।

আরও পড়ুন

ভারতবর্ষ তখন ইংরেজদের শাসনাধীন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অনেক শলাপরামর্শের পর ১৮৩৫ সালে বিজ্ঞানীদের নিয়ে এক রয়্যাল কমিশন গঠন করে।

এই কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে, ভারতবর্ষে চা উৎপাদন করা যায় কি না, তা অনুসন্ধান করে দেখা।

বহু গবেষণা ও পরীক্ষার পর ইংরেজরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে ভারতবর্ষে চায়ের আবাদ সম্ভব এবং বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে লাভজনক হবে।

১৮৩৯ সালে ভারতে প্রথম চা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৮৫৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে সিলেট শহরের অদূরে মালনীছড়ায় বাণিজ্যিকভাবে চায়ের চাষ শুরু করে।

যেখানে উৎপাদনের সম্পর্ক, সেখানেই শ্রম জড়িত। কেবলমাত্র পুঁজি খাটালেই উৎপাদন হয় না। এর জন্য শ্রমিক দরকার। তাই চতুর ইংরেজরা সস্তা শ্রমিক খোঁজা শুরু করে এবং বেছে নেয় ভারতের বিভিন্ন দারিদ্র্যপীড়িত মানুষকে।

১৫০ বছর আগে থেকে বিহার, উড়িষ্যা, অন্ধ্র প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, ঝাড়খন্ডসহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো দালালদের মাধ্যমে এই শ্রমিকদের নিয়ে এসেছিল সিলেট অঞ্চলের চা–বাগানগুলোতে কাজ করার জন্য।

আরও পড়ুন

দালালদের নানান মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে চা–বাগানগুলোর উদ্দেশে যাত্রা শুরুর পর থেকেই তাঁদের দুর্ভোগের শুরু।

চা–শ্রমিকেরা যখন এখানে প্রথমে আসেন, তখন তাঁরা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তিন বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, সেই থেকে শুরু তাঁদের দাসত্বের জীবন। চা–বাগানে আসার পর শ্রমিকদের নতুন পরিচয় হয় ‘কুলি’ হিসেবে এবং তাঁরা কোম্পানিগুলোর সম্পত্তিতে পরিণত হয়।

ব্রিটিশ ভারতে শ্রমিক বলতে চা–শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমজীবী চা–শ্রমিকদেরই বোঝানো হতো। অধিকাংশ চা–বাগানের মালিক ছিল ব্রিটিশ কোম্পানি। ব্রিটিশ মালিকেরা আড়কাঠি দালালদের লাগিয়ে ‘গিরমিট’ প্রথার মাধ্যমে চা–বাগানের শ্রমিক সংগ্রহ করে।

গিরমিট বা জীবন চুক্তিতে সেই যে তাঁদের চা–বাগানে শ্রমিক হিসেবে আগমন ঘটেছিল, সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলমান।

চা–বাগানের শ্রমিকেরা হচ্ছেন নিষিদ্ধ জগতের বাসিন্দা। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চা চাষের জন্য ১৮৬৩-১৮৬৬ সালে এই অঞ্চলে ৮৫ হাজার শ্রমিক আনা হয়, যার মধ্যে অনাহার-অর্ধাহার ও অসুখবিসুখে ৩০ হাজার শ্রমিক মারা যান।

এই চা–শ্রমিকেরা জঙ্গল পরিষ্কার থেকে শুরু করে চায়ের চারা উৎপন্ন করা, চারা ও ছায়াবৃক্ষ রোপণ করা, সেচব্যবস্থা ও চা–বাগানের মালিক-ম্যানেজারদের জন্য বিলাসবহুল বাংলো ও রাস্তাঘাট নির্মাণের কাজে খাটতে হয়; কিন্তু তাঁদের বসবাস করতে হয় লেবার লাইনের কুঁড়েঘরে, যে ঘরও তাঁদের নিজেদেরই নির্মাণ করতে হয়।

চা–শ্রমিকদের জীবন ছিল মধ্যযুগীয় দাস শ্রমিকের মতো। চাবুক, বুটের লাথি, অমানুষিক নির্যাতন ছিল চা–শ্রমিকদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

আরও পড়ুন

মালিকপক্ষের এই নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে কোনো চা–শ্রমিক চা–বাগান থেকে পালিয়ে গেলে তাঁকে ধরে এনে নির্মম প্রহার করা ছিল আইনসিদ্ধ।

তাঁরা যে কেবল মানবেতর জীবনযাপন করতেন তা নয়, এই শ্রমিকেরা অনেকটাই ক্রীতদাসের মতো জীবন কাটাতেন তখন। চা–শ্রমিকদের মজুরি এত কম ছিল যে সেই মজুরি দিয়ে আহার সংগ্রহ সম্ভব ছিল না।

গত শতকের ২০ দশকে বাংলার চা–শ্রমিকেরা ‘মুল্লুক চলো’ নামে একটি আন্দোলন গড়ে তোলেন। চা–শিল্পের ইতিহাসে এই আন্দোলনের তাৎপর্য অনেক।

এই আন্দোলনের একটি করুণ প্রেক্ষাপট রয়েছে; আর সেই প্রেক্ষাপটের সঙ্গে রয়েছে স্বদেশি আন্দোলনের যোগসূত্র। ১৯২০ সালে রাউলাট আইন বাতিলের দাবিতে এবং খেলাফত আন্দোলনের সমর্থনে ভারতীয় কংগ্রেস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়।

এতে সমগ্র ভারতবর্ষের লোকজন দলে দলে ব্রিটিশের চাকরি ও পণ্য পরিত্যাগ করা শুরু করেন। এই বাস্তবতায় কংগ্রেসের কর্মী ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের গোপন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন সিলেটের বিপিন চন্দ্র পালসহ অন্যরা।

১৯২১ সালের ১ ও ২ মে কংগ্রেসের উদ্যোগে চরগোলা আলীর রাতারবাড়ি বাজারে জনসভা হয়। এর আগেই শ্রমিকদের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন মাথাচাড়া দিয়েছিল।

৩ মে প্রথম আনিপুর চা–বাগানের ৭৫০ জন শ্রমিক স্ত্রী-সন্তানদের হাত ধরে কর্তৃপক্ষের বাধা উপেক্ষা করে বাগান থেকে বেরিয়ে পড়েন। যা ভারতের ইতিহাসে ‘চরগোলা এক্সোডাস’ নামে পরিচিত। সহজ-সরল চা–শ্রমিকেরা এর নাম দিয়েছিল ‘মুল্লুক চলো’ আন্দোলন যা চা–বাগানের বন্দিত্ব ঘুচিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আন্দোলন।

চা–বাগানের শৃঙ্খল ভেঙে এই মুক্তির ডাকে চরগোলা ও লঙ্গাই ভ্যালির আশপাশের ১৯টি বাগানের হাজার হাজার শ্রমিক বেরিয়ে পড়েন নিজ মুল্লুকের উদ্দেশে। তখন তাঁদের জানা ছিল না তাঁরা কীভাবে যাবেন, কত দিনে পৌঁছাবেন।

ব্রিটিশ সরকারের হিসাবে সে সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ হাজার। এই অসহায় শ্রমিকেরা প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ হেঁটে করিমগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছালেও দুর্ভাগ্য তাঁদের পিছু ছাড়েনি।

চা–বাগানের মালিক অর্থাৎ প্লান্টার্সদের চাপে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের চাঁদপুরে যাওয়ার টিকিট দেওয়া বন্ধ করে।

করিমগঞ্জ শহরের বাসিন্দাদের চেয়ে শ্রমিকের সংখ্যা কয়েক গুণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র খাদ্যসংকট। তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কংগ্রেস নেতারা এগিয়ে আসেন। তাঁদের মধ্যে দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত ছিলেন। তাঁদের হস্তক্ষেপে নারী-শিশু–বৃদ্ধরা রেলে যাত্রার সুযোগ পান।

পুরুষ শ্রমিকেরা রেললাইন ধরে চাঁদপুরের দিকে অগ্রসর হন। বাগান থেকে বেরিয়ে পড়ার এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সিলেটের বিভিন্ন বাগান থেকে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক তাঁদের এই স্বদেশযাত্রায় যোগ দেন।

শ্রমিকেরা দলে দলে সিলেট, কুলাউড়া, বরমচাল, শমশেরনগর, শ্রীমঙ্গল, সাতগাঁও, শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে জড়ো হতে থাকে। ১৯২০ সালের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে চাঁদপুর রেলস্টেশনে হাজার হাজার শ্রমিক জড়ো হন।

প্রথম দিকে শ্রমিকেরা স্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের সহায়তায় জাহাজে উঠে পড়েন। এ সময় চাঁদপুরের মহকুমা প্রশাসক ছিলেন সুশীল কুমার সিংহ। তিনি শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন; কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে মালিকদের প্রতিনিধি হিসেবে ম্যাকফারস এসে হাজির হন। তিনি আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।

১৯ মে সুশীল কুমার সিংহের নেতৃত্বে সশস্ত্র সৈন্যরা জাহাজে উঠতে থাকা শ্রমিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। একসময় জাহাজের পাটাতন সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে এক ভয়াবহ দৃশ্যের অবতারণা হয়।

শত শত নারী-শিশু–বৃদ্ধ মেঘনার স্রোতে ভেসে যায়; কিন্তু তখনো নৃশংসতার আরও চিত্রপট বাকি। পরদিন জাহাজে নারায়ণগঞ্জ থেকে অর্ধশতাধিক গোর্খা সৈন্য আসেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সশস্ত্র ইউরোপীয় জুট মার্চেন্টরা। চাঁদপুর রেলস্টেশন তখনো স্বদেশমুখী চা–শ্রমিকে লোকারণ্য।

দীর্ঘ ২০০ বছর তাঁরা চা–বাগানে বসবাস করে এলেও শতাব্দীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বঞ্চনা কাঁধে বয়ে বেড়ানো ভাগ্যবিড়ম্বিত জনগোষ্ঠী এই চা–শ্রমিকেরা। চা–বাগানের মালিক ও কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অত্যাচার-নিপীড়ন, অবহেলা-নির্যাতন, বঞ্চনা ও গঞ্জনা তাঁদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

রাতের শেষ ট্রেন চলে যাওয়ার পর স্টেশন থেকে রেলকর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। চট্টগ্রামের কমিশনার কিরণ চন্দ্রের নেতৃত্বে সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়েন ঘুমন্ত শ্রমিকদের ওপর।

হাজারো শ্রমিকের জমাটবাঁধা কালচে লাল রক্তে ছেয়ে যায় স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম। কতশত মানুষকে নৃশংসভাবে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে, হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলা হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই।

অনেক লাশের পেট কেটে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রমত্ত মেঘনার জলে। তখন আসাম-বেঙ্গল রেল কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত। তিনি খবর পেয়ে দেরি না করে চাঁদপুরে ছুটে আসেন।

তিনি রেল ও স্টিমার ধর্মঘট ডাকেন। এই ডাকে রেলশ্রমিকেরা ২৪ মে থেকে আড়াই মাস আসাম-বেঙ্গল রেল ধর্মঘট পালন করেন।

বাংলাদেশ তথা অধুনা ভারতবর্ষে চা–শ্রমিকদের ইতিহাসে ‘মুল্লুক চলো’ আন্দোলনের প্রভাব সূদূরপ্রসারী।

এ আন্দোলনের প্রভাব হিসেবে সেই সময়ের বাস্তবতায় আপাতভাবে চা–শ্রমিকদের ক্রীতদাস জীবনের কিছুটা হলেও অবসান ঘটেছিল। মুল্লুক চলো আন্দোলনের মাধ্যমে যে বহ্নিশিখা প্রজ্বলিত হয়েছিল, তা আজও চলমান।

দীর্ঘ ২০০ বছর তাঁরা চা–বাগানে বসবাস করে এলেও শতাব্দীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বঞ্চনা কাঁধে বয়ে বেড়ানো ভাগ্যবিড়ম্বিত জনগোষ্ঠী এই চা–শ্রমিকেরা। চা–বাগানের মালিক ও কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অত্যাচার-নিপীড়ন, অবহেলা-নির্যাতন, বঞ্চনা ও গঞ্জনা তাঁদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

তাই ২০ মে ঐতিহাসিক ‘চা–শ্রমিক হত্যা দিবস’। চা–শ্রমিকদের রক্তমাখা এই ইতিহাসকে স্মরণ করার জন্য প্রতিবছর ২০ মে বাগানে বাগানে পালিত হয় ‘চা–শ্রমিক হত্যা দিবস’ যা আজও সরকারি স্বীকৃতি পায়নি।

অথচ তার ঠিক দুই বছর আগে সংঘটিত পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড সমগ্র ভারতবর্ষে গভীর সহানুভূতি পায়। যার জন্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া নাইট উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন।

পরিশেষে বলতে চাই, ১৯২১ সালে সংঘটিত এই আন্দোলন চা–শ্রমিকদের অধিকার ও আত্মমর্যাদার সংগ্রামের ইতিহাসে একটি রক্তাক্ত, নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে চির অম্লান থাকবে।

  • যুবরাজ দেববর্মা আদিবাসী অধিকারকর্মী

* মতামত লেখকের নিজস্ব