রোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিন

সম্পাদকীয়

সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা, মানে কোরবানির ঈদ। আর কয়েক দিন পরেই খামারি ও কৃষকেরা কোরবানির পশু বিক্রি করতে হাটে নিয়ে যাবেন। সারা বছর ধরে এ সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন তঁারা। কিন্তু এর মধ্যে গরুর একটি রোগ এসে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে খামারিদের। রোগটির নাম ‘লাম্পি স্কিন’।

ইতিমধ্যে টাঙ্গাইলের গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে এ রোগ। গরু রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে খামারি ও কৃষকেরা ক্ষতির আশঙ্কা দেখছেন। কারণ, এ রোগের কারণে গরুর চামড়ার সৌন্দর্য নষ্ট হয়, মানুষ তখন সেই গরু কিনতে চায় না।

লাম্পি স্কিন মূলত একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত গ্রীষ্মের শেষ ও বর্ষার শুরুতে মশা, মাছি ও খাবারের মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুতে এ রোগ ছড়ায়। এ রোগের কারণে গরুর শরীরজুড়ে ছোট ছোট মাংসপিণ্ডের মতো ফুলে ওঠে। চোখ দিয়ে পানি ঝরে, এমনকি চোখও অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ষাঁড় গরুর ক্ষেত্রে ইনফার্টিলিটি এবং গর্ভবতী প্রাণীতে গর্ভপাত ঘটে। আমরা গরুর খুরারোগের নামের সঙ্গে অনেকে পরিচিত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানাচ্ছেন, সেই খুরারোগের চেয়েও বেশি ভয়ংকর এই ‘লাম্পি স্কিন’। প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, টাঙ্গাইলে আক্রান্ত গরু নিয়ে প্রতিদিনই প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে বা গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে খামারি ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা ভিড় করছেন।

সদর উপজেলার এক গ্রামের বাসিন্দা বলছেন, গ্রামের বেশির ভাগ গরুই এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। কারও কারও দু-তিনটি গরু আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসা বাবদ ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে গেছে। স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় গত দেড় মাসে গরুর লাম্পি স্কিন রোগের ওষুধ বেশি বিক্রি হচ্ছে। অনেক গরু সুস্থ হলেও শরীরে ক্ষত রয়ে গেছে।

রোগের প্রভাবে গরুর মধ্যে ঝিমুনি ভাব দেখা দিয়েছে, খিদে কমে যাওয়া ছাড়াও ক্ষতস্থানে রক্ত ও পুঁজ পড়ছে। এমন অবস্থায় ঈদ সামনে রেখে গরু নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারি ও কৃষকেরা।

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ রোগের সরকারি কোনো টিকা না থাকলেও বেসরকারি পর্যায়ে টিকা দেওয়া হয়। প্রতিদিন এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে।

শুধু টাঙ্গাইল নয়, দেশের অন্যান্য জেলার খামারি ও কৃষকদের মধ্যেও এ রোগ সম্পর্কে সচেতন করা হোক। আমরা মনে করি, সরকারিভাবে এ রোগের টিকার ব্যবস্থা করতে পারলে সংকট মোকাবিলায় তাঁদের জন্য সুবিধা হবে।