ধনীদের চেহারা সামনে রেখে বাজেট করেছেন অর্থমন্ত্রী: কাজী ফিরোজ
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেছেন, অর্থমন্ত্রী ধনীদের চেহারা সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করেছেন। তিনি তেল আর জল এমনভাবে মিশিয়েছেন, তা আলাদা করা সম্ভব নয়।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২২–২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে কাজী ফিরোজ রশীদ এ কথা বলেন।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লুটেরাদের কাছে চলে গেছে মন্তব্য করে ফিরোজ রশীদ বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবাধ লুটপাট চলছে। যেন দেখার কেউ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক বিভাগ নীরব, নিশ্চুপ। কোনোভাবেই লুটপাট থামানো যাচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, পি কে হালদার হাজার কোটি টাকা লুট করে কীভাবে বিদেশে চলে গেলেন। এটি এক দিনে হয়নি। পি কে হালদার ছয়জন বান্ধবীকে নিয়ে ১৩৩ বার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন।
কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এক ব্যাংকের পরিচালক আরেক ব্যাংক থেকে টাকা নেন। টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে না।
জাপার এই সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, লুটেরাদের আড়াল করার জন্য গণতদন্ত কমিশন নামে যাদের কোনো ভিত্তি নেই, তারা ২ হাজার ২০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দিয়েছে। দুই বছর তারা সারা দেশে ঘুরেছে। এই টাকা তারা কোথায় পেল?
কর দিয়ে পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব সমর্থন করে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, টাকা যা পাচার হওয়ার হয়ে গেছে। এই প্রস্তাব অনৈতিক হলেও তিনি সমর্থন করেন। তিনি ৭ শতাংশের বদলে ১২ শতাংশ কর দেওয়া এবং সে টাকা দেশে বিনিয়োগ করবে, এই বিনিয়োগ করার মুচলেকা দিয়ে এই সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেন।
কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, পদ্মা সেতু কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। এই সেতু জাতির গর্ব, অহংকারের বিষয়। বিশ্বে এই সেতু বাংলাদেশের আর্থিক শক্তি, সক্ষমতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। টাকা আদায়ের জন্য এই সেতু করা হয়নি। জনগণের স্বার্থে তিন কোটি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী এই সেতু উপহার দিয়েছেন।
জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম বলেন, অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে সংসদে কথা বলতে বলতে সংসদ সদস্যরা ক্লান্ত হয়ে গেছেন। কিন্তু ঋণখেলাপিরা ক্লান্ত হয়নি। কিছু ছোট খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।