‘ভিন্ন ভূমিকায়’ মাহমুদউল্লাহ-ওয়েডকে দেখার অপেক্ষা
দুই দলেরই নেই একাধিক প্রথম সারির ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়া তো হারিয়ে ফেলেছে তাদের অধিনায়ককেই। সিরিজ শুরুর আগের দিন ম্যাথু ওয়েডের নাম ঘোষণা করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে। অন্যদিকে মাহমুদউল্লাহ একটু ভিন্ন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব পেলেও এখন পূর্ণ মেয়াদেই এ দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে মাহমুদউল্লাহ ও ম্যাথু ওয়েড—এ সিরিজে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দুই অধিনায়ক অন্তত একটা জায়গায় নিজেদের ‘ভূমিকা’ বদলে ফেলছেন। ওপেনিং থেকে নেমে মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করবেন ওয়েড। আর ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় একটু নিচের দিকে খেলা মাহমুদউল্লাহকে আবারও উঠতে হতে পারে একটু ওপরে।
টি-টোয়েন্টিতে মাহমুদউল্লাহ বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন ২০১৯ সালের শেষ দিকে। সাকিব আল হাসান আইসিসির নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর ভারত সফরের ঠিক আগমুহূর্তে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির জন্য নতুন অধিনায়ক ঘোষণা করতে হয়েছিল বিসিবিকে। সাকিব নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরলেও এখনো তাঁকে অধিনায়ক হিসেবে ভাবেনি বিসিবি। টেস্টে মুমিনুল হকের মতো টি-টোয়েন্টিতেও মাহমুদউল্লাহই আছেন দায়িত্বে।
অধিনায়কত্ব পাওয়ার পরও পাঁচেই বেশি খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারে ৮৪ ইনিংসের ৬২টিতেই পাঁচ বা ছয়ে খেলেছেন। তবে সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড সফরের পর জিম্বাবুয়ে সফরে মাহমুদউল্লাহ চারে খেলেছেন, তিন নম্বরেও উঠেছেন। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে তামিম ইকবালের সঙ্গে মুশফিকুর রহিমকেও বাংলাদেশ পায়নি ওপরের দিকে। ফলে টপ অর্ডারে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হয়েছে মাহমুদউল্লাহকে।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও তাঁকে এমন ভূমিকায় দেখা যেতে পারে এবং সেটির সঙ্গে বেশ মানিয়ে নিয়েছেন বলেই জানিয়েছেন অধিনায়ক, ‘প্রায় সময়ই টি-টোয়েন্টিতে আমি পাঁচ-ছয়ে ব্যাটিং করেছি এবং এই শেষ জিম্বাবুয়ে সফরের ওপরের দিকে ব্যাটিং করেছি। এ সিরিজেও হয়তো ওপরের দিকে ব্যাটিং করতে হতে পারে। আমি এটার সাথে অভ্যস্ত। ইনশা আল্লাহ, দলের প্রয়োজনে যাতে অবদান রাখতে পারি, সেটিই চাওয়া।’
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দীর্ঘ সময় ‘ফিনিশার’ ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে মাহমুদউল্লাহকে। তবে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে আলো ছড়িয়েছেন অভিষেক হওয়া শামীম হোসেন, দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা নুরুল হাসানও যুতসই একটা বিকল্প সেখানে বাংলাদেশের। তাঁরা মাহমুদউল্লাহকে আরেকটু স্বাধীনতা দিচ্ছেন ওপরের দিকে খেলার, সেটি মানছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমার মনে হয়, (নুরুল হাসান) সোহান, আফিফ (হোসেন), শামীম—তাদের সামর্থ্য আছে ম্যাচ শেষ করার। খুবই ভালো ছন্দে আছে ওরা। আমি তাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছি। আশা করি, এ সিরিজেও প্রতিভা ও স্কিলের প্রতি সুবিচার করতে পারবে।’
মাহমুদউল্লাহর ভূমিকা বদল হলেও টি-টোয়েন্টিতে তিনি প্রায় অপরিহার্য সদস্য। এ সংস্করণে অভিষেকের পর থেকে বাংলাদেশের ১০১ ম্যাচের ৯২টিতেই খেলেছেন তিনি। সে তুলনায় ম্যাথু ওয়েড অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন যাওয়া-আসার মধ্যে। সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রায় চার বছরের বিরতিতে ফিরেছেন টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। অস্ট্রেলিয়াকে এর আগে একবারই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ওয়েড।
গত বছর অ্যারন ফিঞ্চের চোটে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব করেছিলেন তিনি। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজেই চোট পেলেও ফিঞ্চ খেলেছিলেন শেষ পর্যন্ত। এরপর ওয়ানডে সিরিজে ছিটকে যাওয়ার পর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অ্যালেক্স ক্যারিকে। তবে টি-টোয়েন্টিতে ক্যারির পারফরম্যান্স সুবিধার নয় এখন পর্যন্ত।
অধিনায়কত্বের দায়িত্বের সঙ্গে ওয়েডকে নেমে যেতে হচ্ছে মিডল অর্ডারের শূন্যতা পূরণেও। ক্যারিয়ারের শুরুতে নিচের দিকে খেললেও এবার দলে ফিরে ওয়েড ফিরেছেন টপ অর্ডারেই। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে একটি ম্যাচ এবং এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটিতে ছাড়া প্রতিবারই তিনি নেমেছিলেন ওপেনিংয়ে।
তবে এবার স্টিভ স্মিথ যেমন মিডল অর্ডারে নেই, তেমনি গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো ‘ফিনিশার’কেও পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। মাহমুদউল্লাহ যে ‘ফিনিশারের’ ভূমিকা ছেড়ে ওপরে উঠছেন, ওয়েড অবদান রাখতে চান সেখানেই, ‘এ পজিশনে ম্যাচ জেতানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে চাই। সাত-আট বছর আগে আমার ব্যাটিংয়ে এসব অস্ত্র ছিল না। সম্প্রতি এসব যোগ করেছি—ইনিংসের শেষভাগে কাজে লাগে যেসব। কয়েক বছর আগে যেমন ছিল, এখন তার চেয়ে বেশি কৌশল জানা আছে আমার। সবচেয়ে বড় সুবিধাটা হলো এই পাঁচ ম্যাচে আমি বাজিয়ে দেখতে পারব কী কাজ করছে বা কী করছে না।’
ওয়ানডেতে মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতাও কাজে দেবে বলে মনে করেন ওয়েড, ‘বিশেষ করে ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মিডল অর্ডারে খেলেছি আমি প্রচুর। টি-টোয়েন্টিতে বোধ হয় অর্ধেক ইনিংস খেলেছি সেখানে। সেখানে ব্যাটিংয়ের কাজ করার আরও সুযোগ এসেছে। ওপেনিংয়ে ব্যাটিংয়ের চেয়ে এটা আরও বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বড় সুযোগও।’
ওয়েডের যেমন সুযোগ মিডল অর্ডারে নিজেকে মেলে ধরার, মাহমুদউল্লাহর সামনেও সুযোগ ওপরের দিকে কিছু করে দেখানোর। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার প্রথম দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাই অপেক্ষা দুই অধিনায়ক ‘ভিন্ন’ ভূমিকায় কেমন করেন, সেটি দেখার।