স্টার্ক–হ্যাজলউডদের সামনে কঠিন পরীক্ষা সৌম্য–নাঈম–সাকিবদের
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠের একটি নেট ভাগাভাগি করে নিলেন মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড। দুজনেরই প্রায় দুই ওভারের মতো বোলিং করা শেষ। আরেক দফা বোলিং শুরুর অপেক্ষায়। এমন সময় বোলিং কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড দুজনকে থামালেন। হ্যাজলউড তাঁর হাতে থাকা সাদা বলটি উল্টো করে ঘুরিয়ে স্টার্ককে কী যেন দেখাচ্ছিলেন। সেটি দেখে স্টার্ক বলটাকে ঘোরাতে চেষ্টা করলেন।
দুজনের আলাপ এতক্ষণ পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন কোচ ম্যাকডোনাল্ড। এরপর দুই ছাত্রকে আঙুল ঘুরিয়ে সাবেক এই অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার হয়তো এটিই বললেন, ‘এভাবে নয়, এভাবে বল ছাড়বে।’ ম্যাকডোনাল্ড নিজেও ছিলেন মিডিয়াম পেসার। দৌড়ে এসে স্লোয়ার বল ছাড়তেন তিনি। স্টার্ক, হ্যাজলউডরা ধারাবাহিকভাবে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার বেগে বল করেন। কিন্তু উপমহাদেশের উইকেটে গতিই সব নয়। ব্যাটসম্যানের মাথায় বিভ্রান্তির জন্ম দিতে হলে দরকার গতির বৈচিত্র্য, নানা ধরনের স্লোয়ার। অস্ট্রেলিয়ার দুই ফাস্ট বোলারকে আজ অনুশীলনে দেখে মনে হচ্ছে, তাঁরাও সে পথেই এগোচ্ছেন।
কোচের সঙ্গে এই আলাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার দুই ফাস্ট বোলারই নেটে যে বোলিং করলেন, তাতে যেকোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচের শুরুর কয়েক ওভারের চিত্র ফুটে উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নতুন বলটা এই দুজনেরই ভাগাভাগি করে নেওয়ার কথা। কিন্তু ডেথ ওভারের জন্য অস্ট্রেলিয়া স্টার্কের দুটি ওভার রেখে দিতে পছন্দ করে সব সময়ই। সেটি বোঝা গেল হ্যাজলউডের নতুন বলের অনুশীলন শেষে নেট ছেড়ে দেওয়ায়।
স্টার্ক তখনো বল করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু লেংথ সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিছুক্ষণ আগে গুড লেংথ থেকে সুইং করিয়ে বল ভেতর-বাইরে করা বাদ দিয়ে স্টার্ক অনুশীলন করলেন ইয়র্কারের। কখনো ওয়াইডের সীমানায়, কখনো স্টাম্পে বল ছুড়লেন সাদা বলের ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার। কাল বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগে পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই নেট ছাড়লেন এই ফাস্ট বোলার। ম্যাচে যে চার ওভার তিনি করবেন, তার পূর্ণ প্রতিফলন থাকল অনুশীলনে।
অস্ট্রেলিয়া অক্টোবর-নভেম্বরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকেই স্টার্ক-হ্যাজলউডকে একসঙ্গে খেলাচ্ছে। পরে যোগ দেবেন প্যাট কামিন্স। যদিও তিনি বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে নেই। তবে বিশ্বকাপে স্টার্ক-হ্যাজলউডরাই যে অস্ট্রেলিয়ার নতুন বলটা সামলাবেন, তা প্রায় নিশ্চিত। তাঁর আগে যত বেশি সাদা বলের ক্রিকেট খেলা যায়, ততই ভালো।
ওয়েস্ট ইন্ডিজেও দুজন প্রতি ম্যাচেই ছন্দে ছিলেন। বাংলাদেশেও দুজনকে একসঙ্গে খেলিয়ে দেখবেন জাস্টিন ল্যাঙ্গার। স্টার্ক এক প্রান্তে, আরেক প্রান্তে হ্যাজলউড; চোট অথবা বিশ্রাম দেওয়া না হলে বাংলাদেশি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের আগামী এক সপ্তাহে এই দুই বিশ্বসেরা ফাস্ট বোলারের সামনে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে। সিরিজ শুরুর আগে আজই দুই অস্ট্রেলীয় ফাস্ট বোলার প্রথমবার বাংলাদেশি উইকেটের স্বাদ পেলেন। এই দুজনের ৮ ওভার বাংলাদেশ কেমন খেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।