বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে, ‘এখন পর্যন্ত এটাই সেরা অর্জন’

ট্রফি নিয়ে সংবাদসম্মেলনে নাজমুল হোসেনশামসুল হক

দুটো বাইকের একটি জিতেছিলেন নাজমুল হোসেন। সেটি নিয়েই ঘুরছিলেন মাঠের ভেতরে। এর মধ্যেই একের পর এক ছবির আবদার, স্মৃতিবন্দী করে রাখার আগ্রহ মাঠে থাকা সবারই। ভিড় সামলাতে সামলাতে নাজমুল বাধ্যই হলেন বলতে, ‘সংবাদ সম্মেলনেও তো যেতে হবে!’

অধিনায়ক হিসেবে যা নিয়মিতই করতে হয় নাজমুলকে। কখনো কখনো কঠিন সময়েও তাঁকে সামাল দিতে হয় প্রশ্ন-উত্তর পর্ব। কিন্তু আজ নাজমুলের জন্য যেমন, তাঁর কথা শোনা আকাঙ্ক্ষিত সাংবাদিকদের জন্যও। মিনিট বিশেকের ওই সংবাদ সম্মেলন উপভোগ্য হয়ে উঠল সবার জন্যই।

পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই সিরিজ মিলিয়ে বাংলাদেশ জিতেছে চারটি ম্যাচই। এর আগে একবার জিম্বাবুয়েকেও টানা চার ম্যাচ হারিয়েচিল বাংলাদেশ। তবে এই প্রতিপক্ষের নাম পাকিস্তান। তাহলে এটাই কি টেস্টে বাংলাদেশের সেরা অর্জন? নাজমুলের উত্তর, ‘এখন পর্যন্ত (এটাই সেরা অর্জন)। কিন্তু সামনে আরও অনেক টেস্ট ম্যাচ বাংলাদেশ খেলবে, ওখানে ভালো ভালো অর্জন হবে—এটাই আশা থাকবে।’

আরও পড়ুন

এরপর নাজমুল এমন দিনে বলেছেন আরও উন্নতির কথাও, ‘এই চারটা ম্যাচ অনেক স্পেশাল। আমরা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছি। কিন্তু আমি যেটা সব সময় বলি, আমাদের টেস্ট দলটা আস্তে আস্তে তৈরি করতে হবে। আরও অনেক জায়গা আছে উন্নতির। ওই জায়গাগুলো ঠিকঠাক করতে হবে। এগুলো ঠিকঠাক করে যখন আমরা দেশে এবং দেশের বাইরে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলব, তখন আমি বলব যে না, আমাদের দলটা আগের থেকে ভালো অবস্থানে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের উদ্‌যাপন
শামসুল হক

পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি টেস্টই পাঁচ দিনে গড়িয়েছে। সিলেটে শেষ দিনে ছড়িয়ে পড়েছিল রোমাঞ্চও। পঞ্চম দিনে ৩ উইকেট হাতে রেখে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১২১ রান। সাজিদ খান আর মোহম্মদ রিজওয়ানকে প্রথম ঘণ্টায় ফেরাতে পারেনি বাংলাদেশ।

ওই সময়ের ঘটনা নাজমুল বলেন এভাবে, ‘শেষ এক ঘণ্টার আবেগটা ব্যাখ্যা করা মুশকিল। কারণ, সত্যিই ওরা ভালো ব্যাটিং করছিল, সত্যি বলতে আমরা একটু চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু একটা জিনিস আমি বলব যে আগের টেস্ট ম্যাচগুলোর থেকে আস্তে আস্তে এখন ওই আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা, প্যানিক না করা, এই জিনিসটা একটু ভালো হয়েছে।’

আরও পড়ুন

পুরো টেস্টেই কখনো এমন সময় আসেনি, যখন মনে হয়েছে যে পাকিস্তান এগিয়ে গেছে। কখনো বিপদের সময় দলের হাল ধরে সেঞ্চুরি করেছেন লিটন দাস, কখনো আবার বল হাতে দলের ত্রাতা হয়েছেন তাইজুল ইসলাম কিংবা শরীফুল ইসলাম। দলের সবাইকে কৃতিত্ব দিলেন নাজমুলও।

নাজমুল বলেন, ‘দল হিসেবে খেলতে পেরেছি, এটা একটা উন্নতির জায়গা। প্রতিটা খেলোয়াড় যেভাবে পরিশ্রম করেছে, ব্যাটসম্যান-বোলার যারা ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি, কোচিং স্টাফে যারা সাহায্য করার জন্য থাকেন সবার, আমার মনে হয়, সবার অবদান ছিল। সবাই চাচ্ছিল যে আরেকবার আমরা এ রকম একটা ভালো ফল করতে পারি কি না। অধিনায়ক হিসেবে আমি খুব গর্বিত প্রতিটা খেলোয়াড়ের ওয়ার্ক এথিক দেখে।’