
পরশু গভীর রাতে ম্যাচটা না দেখে যাঁরা ঘুমিয়ে পড়েছেন, তাঁদের জন্য কাল সকালে অপেক্ষা করছিল বিশাল এক চমক। স্কোরলাইনটা সত্যি তো, অ্যাথলেটিক বিলবাও ৪: ০ বার্সেলোনা! যেটা কেউ ভাবেনি, সেটাই হয়েছে। স্প্যানিশ সুপার কাপের দ্বিতীয় লেগটা এখনো বাকি। কিন্তু দুই দিন পর ন্যু ক্যাম্পের ম্যাচে বার্সেলোনাকে প্রায় অক্সিজেন ছাড়া এভারেস্টে আরোহণ করার মতোই চ্যালেঞ্জে জিততে হবে। না হলে ধরে নিন বার্সার ‘শিরোপা ষষ্ঠকে’র জলাঞ্জলি বিলবাওয়ের স্টেডিয়াম সান মামেসেই ঘটে গেছে।
ফুটবলে বল দখল কখনো কখনো আপনাকে ভুল ধারণা দেবে। ম্যাচের ৭৫ শতাংশ সময় বল বার্সার কাছেই ছিল, অথচ বিলবাওয়ের প্রতি-আক্রমণে প্রতিবারই রক্ষণে তাদের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। মেসি-সুয়ারেজদের ছাপিয়ে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকে পরশুর রাতটা নিজের করে নিয়েছেন বিলবাও স্ট্রাইকার আরিজ আদুরিজ। তিন দিন আগেই উয়েফা সুপার কাপের ম্যাচে সেভিয়ার সঙ্গে ৫-৪ গোলে জিতেছিল বার্সেলোনা। ২০০১ সালের পর এই প্রথম বার্সা পর পর দুই ম্যাচে খেল ৮ গোল। গত মৌসুমে প্রথম ১৩ ম্যাচে ৮ গোল খাওয়া দলটির জন্য একটু বেশিই বেমানান।
ক্লান্তির জন্যই হয়তো লুইস এনরিকে সেভিয়ার বিপক্ষে ইউরোপীয় সুপার কাপজয়ী ম্যাচের পাঁচজনকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন। কিন্তু বার্সা কোচের ফাটকা কাজে লাগেনি। রক্ষণে ভার্মেলেন-বার্ত্রা খাবি খেয়েছেন, দুই প্রান্তে দানি আলভেজ ও আদ্রিয়ানো একের পর এক ভুল করে গেছেন। পেনাল্টি থেকে করা আরিজ আদুরিজের তৃতীয় গোলটা তো আলভেজের অহেতুক ফাউলের ফল। মাঝমাঠে মাচেরানো-সার্জি রবার্তো-রাফিনহা ত্রয়ী নিজেদের হারিয়ে খুঁজেছেন। মেসি-সুয়ারেজ-পেদ্রোও ছন্দ খুঁজে পাননি।
তবে ৪ গোলে হারের অজুহাত এসব হতে পারে না। শুরুর গোলের দায়টা গোলরক্ষক আন্দ্রে টের স্টেগেনকেই নিতে হবে। নয়্যার থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই হয়তো, ম্যাচের ১৩ মিনিটে বক্স ছেড়ে বেরিয়ে হেডে বল ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন। সেটা এসে পড়ে সরাসরি বিলবাও মিডফিল্ডার সান হোসের পায়ে। স্টেগেন সবিস্ময়ে দেখলেন, হোসের ৪০ গজি শটটা মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়িয়ে যাচ্ছে!
বার্সেলোনা অবশ্য সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল। বিরতির পর পেদ্রোর শট ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে, মেসির একটি ফ্রি-কিক ও বাঁ পায়ের একটি শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক। ৫৩ মিনিটেই আবার বাঁ দিক থেকে উড়ে আসা ক্রসে দুর্দান্ত হেডে গোল পান আদুরিজ। ৯ মিনিট পরেই ১০ গজ দূরের ভলিতে পেয়ে যান দ্বিতীয় গোল। ৬৮ মিনিটে আলভেজ বিলবাওয়ের ইজেইতাকে ধাক্কা দিয়ে পেনাল্টি পাইয়ে দেন। গোল করে স্মরণীয় এক হ্যাটট্রিকে ৩৪ বছর বয়সী আদুরিজ ফিরিয়ে আনলেন উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার ডিয়েগো ফোরলানের স্মৃতি। ২০০৫ সালে বার্সেলোনার বিপক্ষে সর্বশেষ হ্যাটট্রিক করার কীর্তিটা ভিয়ারিয়ালের ফোরলানের। এএফপি।