অলিম্পিকে আবিষ্কৃত হলো ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত মেরে দিয়েছিলেন অনু মালিক

অনু মালিকছবি : টুইটার

আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকসে ছেলেদের ফ্লোর এক্সারসাইজে গতকাল সোনা জিতে নিয়েছেন ইসরায়েলের আরতেম দলগোপিয়াত। ২০০৪ সালের পর এই প্রথম কোনো ইভেন্টে সোনা জিতল ইসরায়েল। ইসরায়েলের ইতিহাসের দ্বিতীয় অলিম্পিক সোনা এটি।

ঘটনাটা ইসরায়েলের জন্য যথেষ্টই গর্বের, বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এই ইভেন্টের পর ইসরায়েলের এই জিমন্যাস্টসের ওপর আলো থাকবে কি, সব আলো কেড়ে নিয়েছেন ভারতের বিখ্যাত সংগীত পরিচালক অনু মালিক!

আরতেম দলগোপিয়াত
ছবি : রয়টার্স

খটকা লাগা স্বাভাবিক। কথা হচ্ছে অলিম্পিক নিয়ে, এর মধ্যে ভারতীয় বিনোদন জগতের কথা আসবে কেন? কিন্তু এসেছে। আর এসেছে অদ্ভুত এক কারণেই। ইসরায়েল যেহেতু বৈশ্বিক কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতাতেই এমন পর্যায়ে আসে না, তাই তাদের জাতীয় সংগীত এমনিতেই অধিকাংশ মানুষের কাছেই অচেনা। কিন্তু দলগোপিয়াতের সোনা জেতার পর সেটা আর অচেনা থাকেনি। আর অচেনা থাকেনি বলেই বেরিয়ে এসেছে একজনের ‘থলের বেড়াল’!

সোনা জেতা দলগোপিয়াত পদক গলায় নেওয়ার পর বেজে ওঠে ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত। অলিম্পিকের কোটি কোটি দর্শকের অনেকে ভারতেও আছেন। যাঁরা কাল দলগোপিয়াতের ইতিহাস গড়ার কাহিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। এরপর ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত শুনেই খটকা লাগে তাঁদের মনে। চেনা চেনা লাগছে ওই সুর, কোথায় যেন শুনেছি!

পরে এমন এক কৌতূহলী ভারতীয় দর্শক বের করেন ওই সুরটা খুব জনপ্রিয় একটা গানের। ১৯৯৬ সালে অজয় দেবগন অভিনীত ‘দিলজালে’ ছবির একটি গানের। ‘মেরা মুলক মেরা দেশ’ শিরোনামের ওই গানের সুরের সঙ্গে প্রায় পুরোপুরি মিলে যায় ইসরায়েলের জাতীয় সংগীতের ওই সুর! ফলে আর কারোর বোঝার বাকি থাকে না, সেই গানের সংগীত পরিচালক অনু মালিক ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত থেকেই ‘মেরা মুলক মেরা দেশ’ গানের সুর ‘টুকলিফাই’ করেছেন!

গানটা পুরোপুরি দেশাত্মবোধক। অর্থাৎ নিজের দেশকে প্রশংসায় ভাসানো গানটার সুর অনু মালিক নিয়েছেন আরেক দেশের জাতীয় সংগীত থেকে। গানটায় কণ্ঠ দিয়েছিলেন উদিত নারায়ণ ও কুমার শানুর মতো খ্যাতিমান শিল্পী।

ব্যস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে অনু মালিককে নিয়ে হাসি–মশকরা। আগেও গানের সুর ‘মেরে দিয়ে’ সমালোচিত হয়েছিলেন ৬১ বছর বয়সী এই সংগীত পরিচালক। ‘মার্ডার’ চলচ্চিত্রের ‘কাহো না কাহো’, ‘আকেলে হাম আকেলে তুম’ চলচ্চিত্রের ‘দিল মেরা চুরায়া কিঁউ’, ‘ইশক’ চলচ্চিত্রের ‘নিঁদ চুরায়ি মেরি’ ইত্যাদি গানের সুরের জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন অনু মালিক।

একজন টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘অনু মালিক ১৯৯৬ সালের ছবি দিলজালের জন্য যে শুধুই ইসরায়েলের জাতীয় সংগীতের সুর চুরি করেছেন তা নয়, বছরের পর বছর ধরে গবেষণা করে বেরও করেছেন যে কোন দেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অনেক বছর ধরে পদক জেতার সম্ভাবনা নেই! দূরদর্শী মানুষের পক্ষেই সম্ভব এ কাজ করা।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘অনু মালিককে অলিম্পিকের সোনার পদক দেওয়া উচিত, গানের সুর চুরি করার জন্য।’